কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাস্তা পার হতে যাওয়া এক স্কুলছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে। এতে নারী ও শিশুসহ বাসের অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাকুন্দিয়া পৌর সদরের শ্রীরামদী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা এবং চালকরা। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার কবির (২৬), জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার পারভীন আক্তার (৫৫) এবং আনতা (২৩), করিমগঞ্জ উপজেলার সালমান (১৮) এবং আয়শা সিদ্দিকা (২৮), তাড়াইল উপজেলার দুলাল মিয়া (২৮) পাকুন্দিয়া উপজেলার শীরামদী এলাকার স্কুলছাত্রী ইকরা (১৩), শরিয়তপুর জেলার সাড়ে ৩ বছর বয়সী আনাহিতা, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সম্রাট (২২), সিরাজগঞ্জ জেলার সৌরভ (২৬) । তাদেরকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘অনন্যা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী এলাকা অতিক্রম করছিল। চলন্ত বাসটির সামনে হঠাৎ এক স্কুলছাত্রী চলে আসে। ওই ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক দ্রুত ব্রেক কষলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পার্শ্ববর্তী জমিতে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় বাসের ভেতরে থাকা অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান। তারা উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। দুর্ঘটনার কারণে সড়কটিতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সাধারণ যাত্রী ও চালকরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নার্গিস আরা চম্পা জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসা ১০ জনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু আনাহিতাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং সম্রাটকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বিষয়টি খোলা কাগজকে নিশ্চিত করে জানান, একটি শিশু রাস্তা পার হচ্ছিল; তাকে বাঁচাতে গিয়ে একটি গাড়ি আকস্মিকভাবে তার লেন পরিবর্তন করে ফেলে। এসময় পেছনে থাকা আরেকটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করি এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১২ জন আহতের সংবাদ পেয়েছি। বর্তমানে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় যদি কেউ মামলা করতে চান বা লিখিত অভিযোগ দেন, তবে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কেকে/ এমএস