মৌলভীবাজারে আকস্মিক ভয়াবহ ঝড়ের তান্ডবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৮৫৫টি কাঁচা ও আধপাকা ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে অসংখ্য গাছ-বাঁশ উপরে পড়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিনের কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার জুড়ী, কমলগঞ্জ, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বড়লেখা ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় কাঁচা ও আধপাকা ৮৫৫ টি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের তালিকা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তারা এই তালিকা করেছেন।
জানা যায়, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় কয়েক দফা বৈশাখী ঝড় হয়। এতে জেলার ৭টি উপজেলায় অনেক কাঁচা ও আধপাকা ঘর ব্যাপক বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জুড়ী উপজেলায়।
জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিরইনতলা গ্রামে ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে প্রায় ৪০টি পরিবারের স্বপ্ন। সেখানকার বাসিন্দাদের অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে যায় ও কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, “কালবৈশাখী ঝড়ে জেলায় প্রাথমিক অবস্থায় ৮৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের তালিকা করা হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
কেকে/এসএম