কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন চন্ডিপাশা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী মো. আল মামুন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, চন্ডিপাশা গ্রামের বাসিন্দা আল মামুনকে ওই বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (দপ্তরি) পদে নিয়োগের আশ্বাস দেন প্রধান শিক্ষিকা। তার কথায় বিশ্বাস করে ২০২০ সালে মামুন নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ চার বছর পার হলেও চাকরি পাননি তিনি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন তিনি।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। পরে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে তিনি সোনালী ব্যাংক, পাকুন্দিয়া শাখার একটি ৩ লাখ টাকার চেক দেন এবং বাকি ২০ হাজার টাকা নগদ দেওয়ার কথা বলেন। তবে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে অ্যাকাউন্টে কোনো পর্যাপ্ত টাকা নেই।
ব্যাংক ম্যানেজার তাদের জানান, অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকা সত্ত্বেও চেক প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা সুকৌশলে জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া চেক দিয়ে তাদের সাথে আবারও প্রতারণা করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. আল মামুন জানান, আমি একজন সহজ-সরল মানুষ। চাকরির আশায় টাকা দিয়ে এখন আমি সর্বস্বান্ত। আমার কাছে টাকা লেনদেনের অডিও এবং ভিডিও ফুটেজসহ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং এই প্রতারক শিক্ষিকার শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগীর বাবা মো. বকুল মিয়া বলেন, ‘প্রধান শিক্ষিকা আমার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন চাকরি বা টাকা—কোনোটিই দিচ্ছেন না, শুধু বারবার তারিখ বদলাচ্ছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মুরুব্বিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। এই বিপুল অর্থ হারিয়ে আমি এখন চরম আর্থিক অনটনে পড়ে পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
স্থানীয় আব্দুল রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা যোগসাজশ করে ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবাদ করেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে আমি টিএনও অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি এবং সংবাদপত্রে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এখন টাকা ফেরত চাইলে তিনি ঢাকা বা এলাকার জমি বিক্রির কথা বলে দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছেন।’
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ফোন দিয়ে সরাসরি স্কুলে গেলে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই ছুটি দিয়ে চলে যান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি।’
পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলত হোসেন খান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয় তদন্ত করা হবে সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আরও এমন টাকা ঋণের অভিযোগ রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস জানান, ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি সুযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা চলমান রয়েছে।’
কেকে/ এমএস