কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় ধর্ষণের পর শিশু হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই রায় দেন শিশু সহিংসতা অপরাধদমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আবদুল হান্নান।
দীর্ঘ ৬ বছর বিচারধীন অবস্থায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ময়নাল হোসেন বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামে মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে।
এই মামলায় অপর এক নাবালক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিউল আলম সুজন।
তিনি জানান, বাবার জন্য মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড করতে যাবার পথে মামলায় ময়নাল হোসেন ভিকটিম মীমকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে—প্রমাণ হওয়ায় বিচারক আজ তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। অপর আসামি নাবালক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন। আমরা এই রায়ে সন্তোষপ্রকাশ করি।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ মে বুড়িচংয়ের ভারেল্লা গ্রামের বাসিন্দা আসামি ময়নাল হোসেন প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু উম্মে হাবিবা মীমকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পলিথিনে পেঁচিয়ে মরদেহ ভারেল্লা শাহ ইসরাইল কামেল মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।
ঘটনার পর দিন ২১ মে নিহত উম্মে হাবিবার মীমের মা পারভীন আক্তার শারমিন নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি করেন)। ২২ মে আসামিরা মীমের ছোট চাচাকে সাগরকে ডেকে মাদ্রাসার ট্যাংকিতে বস্তাবন্দি মরদেহ রয়েছে বলে জানায়। মরদেহ দেখে সাগরের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন কাইয়ুমকে আটক করে।
পরে কাইয়ুমের দেয়া তথ্যে ময়নালকেও আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ বুড়িচং থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ময়নালসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষ বিচারক আজ প্রধান আসামি ময়নালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার বাদী নিহতের মা পারভীন আক্তার শারমিন বলেন, ‘৬ বছর মেয়ের লাশ কাঁধে নিয়ে ঘুরার পর এই রায় পেলাম। আমি সন্তুষ্ট। কিন্তু আমি চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক।’
কেকে/এমএ