নোয়াখালী সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শারীরিক হেনস্তা ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ আরও কয়েকজন এ হামলা চালায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, বুধবার দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন তার দাপ্তরিক কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এ সময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে বসেন। এতে সোহাগসহ কলেজ ছাত্রদলের অন্য নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। একইসঙ্গে শিক্ষকদেরকে গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
এছাড়া বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলে। নেতারা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকেও হুমকি দেয়।
ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভার ডাক দেয় কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতাদের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে রাশেদুল ইসলাম সোহাগের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ হয়নি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য। আমরা তো ছাত্ররাজনীতি করে আসছি। শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের বেয়াদবি কখনো শিখি নাই। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের দলের লোক হোক আর যে দলেরই হোক, তা বরদাস্ত করা হবে না।’
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ