মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
হাফেজ আহমদের মানবেতর জীবন, নুন আনতে পান্তা ফুরায়
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম আপডেট: ০৩.০৫.২০২৬ ৮:৪৩ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালী বলা হলেও বিগত কয়েক বছরেও মাছে ভাতে খাবার জুটেনি কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের উত্তর বড়বিল এলাকার হাফেজ আহমদের (৫৫)। ৬ মেয়ে ৩  ছেলে এক স্ত্রীসহ ১১ জনের সংসারে হাফেজ আহমদ একমাত্র আয় উপার্জনের মানুষ হওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। 

বয়সে বৃদ্ধ হলেও এখনো পায়নি বৃদ্ধ ভাতা বা সরকারি অন্যান্য সুবিধা। শুধু মাছের কথা বলেছি ভালভাবে এক বেলা খাবার যোগাড় করতে পড়তে হয় হিমশিমে। অন্যদিকে স্ত্রী ছমুদা খাতুনও বয়সে নুইয়ে পড়ার কারণে তেমন কাজ করতে না পারায় স্বামীর কাজে তেমন কোন সাহায্য করতে পারেন না। 

অন্যদিকে মাথার ওপর ভাঙা চালা, আর পেটে তীব্র ক্ষুধা এটাই এখন কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বড়বিল এলাকার বাসিন্দা হাফেজ আহমদের নিত্যসঙ্গী।

সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ১১ সদস্যের এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হাফেজ আহমদ এখন জীবনযুদ্ধে বিপর্যস্ত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাফেজ আহমদের ঘরটি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে নুইয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও অর্থের অভাবে তা সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

অভাবের তাড়নায় এই পরিবারটি এখন এতটাই অসহায় যে, গত এক বছরে পরিবারের সদস্যদের পাতে এক টুকরো মাছ কিংবা মাংস জোটেনি। শাক-ভাত খেয়েই কোনোমতে দিন পার করছেন তারা।

জীবন সংগ্রামের গল্প, পেশায় দিনমজুর বা সাহায্যপ্রার্থী হওয়ার চেয়ে হাফেজ আহমদ বেছে নিয়েছেন কঠোর পরিশ্রম। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর বন-জঙ্গলে ঘুরে শাক-সবজি সংগ্রহ করেন তিনি। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে সেই শাকসবজি বাজারে বিক্রি করে যা সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই চলে তরে সংসার।

দ্রব্যমুর্ল্যের বাজারে এই সামান্য আয়ে নুন-ভাত জোগাড় করাই যেখানে দায়, সেখানে ঘর মেরামত করা তার কাছে এক বিলাসিতা মাত্র।

হাফেজ আহমদ জানান, “সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। নুন আনতে পান্তা ফুরায় আমার। ঘর ঠিক করব কীভাবে? গত এক বছরে আমার ছেলেমেয়েদের মুখে একটু মাছ বা মাংস তুলে দিতে পারিনি।”

পাচ্ছেন না সরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ পর্যন্ত এই হতদরিদ্র পরিবারটির কপালে জোটেনি কোনো সরকারি অনুদান বা সহযোগিতা। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে থাকা এই পরিবারটি জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের সুদৃষ্টির আশায় দিন গুনছে।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসীর দাবি, হাফেজ আহমদের এই অসহায়ত্বের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে রামু উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত। একটি মাথা গোঁজার ঠাই এবং একটু স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

কেকে/এসএম



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close