মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গোপনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পুড়িয়ে ধ্বংস করার সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনা তদন্তে জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নিছা, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. এজাজ আহমেদ রোচি ও মাগুরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আফজাল হোসেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনুর জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাজী আবু আহসান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান টুটুল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, আমাদের কেউ নির্দিষ্ট করে পোড়ানোর জন্য বলেনি। আমরা ময়লা নিতে গিয়ে সেখানে অনেক পুরনো ওষুধ দেখতে পাই। আমরা ভেবেছি, এগুলো ময়লার সাথে ফেলে দিতে হবে, তাই পুড়িয়ে ফেলেছি। আমরা বুঝতে পারিনি যে, এটি এতো বড় আকার ধারণ করবে। প্রায় এক বস্তার মতো ওষুধ ময়লার সাথে ছিল।’
কাজী আবু আহসান জানান, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, বিগত ২০ বছর আগেরও ওষুধ হাসপাতালে জমা আছে। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ‘কন্ডেমনেশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা এবং সেটি প্রক্রিয়াধীন ছিল। ওষুধগুলো তালিকাভুক্ত করে আমরা বস্তাবন্দি করে রেখেছিলাম। কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অসাবধানতাবশত ময়লার বস্তা মনে করে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।’
তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
কেকে/এমএ