মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জলেভাসা চট্টগ্রাম, বিব্রত সরকার
জামালুদ্দিন হাওলাদার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্পের কারণে জলাবদ্ধতায় দুদিন কাটল নগরবাসীর। তাদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অথচ সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের দেখা মেলেনি কোথাও। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিটি করপোরেশনে সিডিএ চেয়ারম্যানকে সামনে পেয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তাকে ‘সরকারের বিরুদ্ধের লোক’ হিসেবে অভিযুক্ত করলেন তিনি। নগরীর টাইগারপাস সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী, মেয়র, সিডিএ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

‘আপনি সরকারের বিরুদ্ধের লোক’- বলায় মীর শাহে আলমকে সিডিএ চেয়ারম্যান উত্তর দিলেন, ‘শাহাদাত ভাই (মেয়র) আমাকে চেনে স্যার।’ 

প্রতিমন্ত্রী প্রতি-উত্তরে বললেন, ‘শাহাদাত ভাই চিনলে কী হবে! চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩৬টি খাল সংস্কার করছে। সমস্যাটা হয়েছে আপনাদের নিয়ে। মিডিয়ায় আপনার কোনো বক্তব্য নাই। সাধারণ মানুষ রাগ-ক্ষোভ ঝাড়ছে মেয়র শাহাদাতের ওপর।’

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এর মেয়রকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার এ সমন্বয় কমিটি করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ওয়াসা-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন), জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

এ ছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং পানি উন্নয়ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরাও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সারা বছর সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি করবে। কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আহ্বান করে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। 

পাশাপাশি জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ প্রদান এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থার প্রতিনিধিদের কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও থাকবে কমিটির। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ সমন্বয় কমিটির কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।

গত মঙ্গল ও বুধবারের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে সংস্কার কাজের জন্য দুটি খালে বাঁধ থাকায় এই জলাবদ্ধতা- দাবি করেছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সিডিএর কর্মকর্তারা। গত দুদিনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সিডিএ চেয়াম্যানকে কোথাও দেখা যায়নি। দেননি কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য। এ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সিটি মেয়রও। 

গত বুধবার দুপুরে জলাবদ্ধ প্রবর্তক মোড় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের জন্য নগরবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেছেন। আমি নিজেও দুঃখপ্রকাশ করেছি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজটা করছে সেনাবাহিনী। গতকাল তাদের আমি দেখিনি। আজ আমি আশা করেছিলাম সিডিএ চেয়ারম্যান অন্তত এখানে থাকবেন।’ 

বুধবার সংসদ অধিবেশনে জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। 

তিনি দাবি জানালেন এ সংকট নিরসনের। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘একটি বড় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি নিরসন করতে কিছুটা সময় লাগবে। এ কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।’ 

গত মঙ্গলবার ও বুধবার জলে ভাসা চট্টগ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি হয়নি। তবে চট্টগ্রামের আকাশ মেঘলা রয়েছে। মাঝেমধ্যে রোদের ঝিলিকও দেখা দিচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৫১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। 

আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা জারি রয়েছে। এর আগে সোমবার চট্টগ্রামে প্রথম বৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে শহরের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। টানা বৃষ্টিতে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বুধবার পুনরায় বৃষ্টিতে আবার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়।

এরপর বুধবার রাতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চট্টগ্রাম আসেন। তিনি বলেছেন, কিছু এলাকায় সাময়িক পানি জমলেও পুরো নগরী ডুবে যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে যেভাবে চট্টগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে পানিতে ভাসমান শহর হিসেবে, বাস্তবে তেমন নয় পরিস্থিতি। 

তিনি দাবি করেন, সন্ধ্যার পর থেকে স্বাভাবিক রয়েছে নগরের অবস্থা। প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। কারণ, বুধবার রাতেও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, বাদুরতলা এলাকার কিছু কিছু স্থানে পানি জমে ছিল।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জলেভাসা চট্টগ্রাম   বিব্রত সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close