প্রবাসে একেকটি মৃত্যু মানে শত স্বপ্ন অঙ্কুরেই ঝরে পড়া। এ মৃত্যু শুধু স্বজন হারায় না, হারায় জীবন ধারণের উপায় কিংবা একমাত্র অবলম্বন। এতে নেমে আসে একটি পরিবারে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় কোনো কোনো পরিবার। তার ওপরে লাশ আনা নিয়ে চলে দীর্ঘ অপেক্ষা। আছে দালাল হয়রানি। রয়েছে আইনি জটিলতাও। তবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি পদক্ষেপ অনুসরণের পরামর্শ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের।
গেল পাঁচ মাসে বিভিন্ন দেশে কর্মরত চাঁদপুরের অন্তত অর্ধশত শ্রমিকের মারা গেছেন। ছোট্ট তিন কন্যা নিয়ে অথৈ পাথারে ২৩ বছরের জান্নাত। চোখগুলোয় এক অনিশ্চিত অনিরাপদ ভবিষ্যতের শঙ্কা। ২৯ মার্চ ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা যান স্বামী কাউছার হোসেন। মৃত বাবার মুখ সন্তানদের দেখানোর চেষ্টা শুরু করেন জান্নাত। তারপর এক নিকট আত্মীয়কে ধার-কর্য করে দেন এক লাখ ৮০ হাজার টাকা।
নিহত কাউছারের ছোট ভাই বলেন, ‘আমাদের পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ। এদিকে ধার-দেনা করে টাকা নিয়েছে। ঋণের বোঝা পরিশোধ করব কিভাবে জানি না। তিন ভাতিজিকে নিয়ে এমনিতেই ভাবি অসহায় অবস্থায় পড়েছে।’
সৌদিতে ফরিদগঞ্জের সোহেলের মৃত্যু আরও ভয়ঙ্কর। সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে ধারণা করা যায়, এটি দুর্ঘটনা না যেন নিতান্তই খুন। তাও তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় তার পরিবার। জানেন না লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া। স্বজন ও প্রতিবেশীরা চাইলেন সহযোগিতা।
গেল কয়েকদিনে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন সদরের মো. বাবলু ভূঁইয়া, সাংবাদিকপুত্র মো. আলমাছ সরদার ফরিদ কিংবা আগামীকাল অন্য কেউ। এভাবে গেল পাঁচ মাসে অন্তত ৫০ জন চাঁদপুরের শ্রমিক মারা গেছেন প্রবাসে। যারা শুধু পরিবারের সুখের আশায় জীবন উৎসর্গ করল। যদিও তাদের মৃত্যুর দালিলিক বৈধতা মিললে প্রতি পরিবার সরকারের তরফ থেকে পাবে তিন লাখ টাকা অর্থ সহায়তা। অথচ টাকার অংকটা হতে পারে ১০ লাখ টাকা। যা দিয়ে একটি পরিবার কিছুটা হলেও আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন সচেতনমহল।
চাঁদপুর কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসে যদি দুর্ঘটনায় কেউ মারা যান, তবে তার লাশ সরকারিভাবে দেশের আনার ব্যবস্থা করা হয়। এক্ষেত্রে অনেক সময় পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সহজ হয়।
যদিও বৈধ প্রক্রিয়া বা অনেকেই ইন্স্যুরেন্স করেন না। ইন্স্যুরেন্স না করলে এ সহায়তা পায় না মৃত প্রবাসীর পরিবার। তবে এক্ষেত্রে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড করা হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘ইন্স্যুরেন্স করলে মৃতের পরিবারের বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। যা অনেক প্রবাসীর অজানা। এক্ষেত্রে প্রবাসে যেতে আগ্রহীদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হবে।’
জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে চাঁদপুরের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রবাসে থাকেন। যাদের পাঠানো রেমিটেন্সেই সচল থাকে চাঁদপুরের অর্থনীতি।
কেকে/এমএ