দুই হাজার ৩০০ একরের বিশাল ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অধ্যয়ন করছে প্রায় ২৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দুরের ক্যাম্পাসে যাতায়াতের একমাত্র বাহন শাটল ট্রেন। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বটতলী থেকে চবি ক্যাম্পাস পর্যন্ত চালু করা হয় শাটল ট্রেন। পূর্বে তিনটি ট্রেন চলাচল করলেও এখন মাত্র দুইটি ট্রেন চক্রাকারে চলাচল করছে।
শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের এই প্রাণের শাটলই এখন রূপান্তরিত হয়েছে গলার কাটায়। বছর বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি নতুন বগি কিংবা ট্রেনের সংখ্যা। গাদাগাদি আর আসন সংকটের মতো ঝামেলা দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তার উপর শাটলের নতুন আতঙ্ক হিসেবে যুক্ত হয়েছে পাথর নিক্ষেপ। গত এক বছরে প্রায় ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায়।
এছাড়াও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় পৌঁছেছে চরম মাত্রায়। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় প্রতিটি ট্রেনই বিলম্ব করে আসা-যাওয়া করছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষাসহ নৈমিত্তিক কাজে ব্যপক প্রভাব পড়ছে। গত মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) কয়েক ঘন্টা টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ক্যাম্পাস থেকে শহরমুখী ট্রেনগুলোর ইঞ্জিন উল্টোপথে ফতেয়াবাদ জংশনে গিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। এতে করে যাত্রাপথে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের ফলে শিডিউল বিপর্যয় পৌছেছে চরমে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতের ক্যাম্পাসগামী শাটল ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে পৌছানোর কথা থাকলে যাত্রাপথে ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ায় পৌঁছায় ১০টা ৪০ মিনিটে। একই দিনে বাহির থেকে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় লোকোমাস্টার মো. ওমর ফারুক মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক লেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, শাটলে শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় এজিএমের সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বারবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করার পরেও আশানুরূপ কোনো ফল আসেনি। আগামী ৪ মে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বিশ্বাসবিদ্যালয় প্রশাসনসহ চাকসুর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আশানুরূপ কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
ইসলামী ছাত্র মজলিস চবি শাখার সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি বলেন, ‘শাটল ট্রেন এখন আর যাতায়াতের মাধ্যম নাই। স্রেফ শিক্ষার্থীদের সময় ও জীবন নষ্ট করার মেশিনে পরিণত হয়েছে। বাস্তবিক পরিকল্পনা নাই, স্থায়ী সমাধান নাই। আছে শুধু চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদকের দুই দিন পরপর স্মারকলিপি দেওয়া আর ফুটেজ খাওয়া। সকাল নাই, দুপুর নাই, রাতেরও হিসাব নাই। হাজার-হাজার শিক্ষার্থীর জীবনটা জাহান্নাম হয়ে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে চবির প্রক্টর হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা ইতোমধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা, করি খুব দ্রুতই একটা সমাধান আসবে।’
শাটল ট্রেন নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থাকলেও সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষোভ ঝাড়ছেন। বিভিন্ন অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সারাদেশের সাথে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ করার হুশিয়ারিও দিচ্ছেন।
এর আগেও গত ২৩ এপ্রিল শাটল সংস্কারের দাবিতে চাকসু কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনসহ ১১ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল।
কেকে/এমএ