অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাউসার ফকির নামে তরুণের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র তিন বছরে তিনি গড়ে তুলেছেন দেশ-বিদেশে বিস্তৃত অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক। কাউসার ফকির অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত তিন বছর আগে কাওসার অনলাইন জুয়ার সাথে যুক্ত হয়। তিন বছরেই সে গড়ে তুলেছে অনলাইনে জুয়ার বিশাল নেটওয়ার্ক। অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম গড়ে তুলে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন কাউসার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কাউসার জুয়ার নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছেন বিদেশেও। আবার নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করেন দেশের অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইটগুলোরও।
কাউসারের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামে। সে গ্রামের কৃষক রুহুল ফকিরের ছেলে।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও সাদামাটা জীবনযাপন করতো কাউসার। অনলাইন জুয়ায় যুক্ত হওয়ার কয়েক দিন যেতে না যেতেই তার জীবন পাল্টে যায়। হয়ে উঠেন কোটিপতি। কয়েক বছরে নামে-বেনামে করেছেন অনেক সম্পত্তি। ব্রান্ডের গাড়ি, ফোন ও আলিসান জীবন এখন তার কাছে দুধভাত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হারুয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘কাউসার দেশ ও বিদেশের উঠতি বয়সের ছেলেদের নিয়ে জুয়ার প্লাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ করেন। ৩ বছর আগেও বখাটের মতো ঘুরে বেড়াতো, বেকার বলে তাকে তেমন পাত্তা দিতো না এলাকার মানুষ। এখন হঠাৎ করে বনে গেছেন কোটি টাকার মালিক। ঈশ্বরগঞ্জ ও দেশের বাহিরের শতাধিক অনলাইন স্কেমার ও জুয়ারিকে সাগর খেলা শেখাতে ও ডলার দিতে সহায়তা করে কাউসার ‘
স্থানীয়দের দাবি, কাউসার ফকিরের অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বসান্ত হচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের অনেক মানুষ। তাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় এনে সমাজ থেকে অনলাইন জুয়ার চক্রের লাগাম টেনে ধরেন।
জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করেন কাউসার ফকির। তিনি বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউসার ফকিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ