মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৬ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
পানি বৃদ্ধিতে তলালো বোরো ধান
ফসল হারানোর শোক সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যু
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। 

রোববার (৩ মে) সকালে দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে, শনিবার বিকালে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর কালনি হাওরে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত আক্তার হোসেন আলীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত দুধা মিয়ার ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো হাওর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি ৩ একর জমিতে বোরোধান আবাদ করেছিলেন। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তার জমির ধান পানির নিচে চলে যায়। কিছু ধান কাটা হলেও পরিবহন সংকটে তা বাড়িতে পারেননি। বিকালে জমিতে গিয়ে ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ভাতিজা তৌহিদ জানান, চাচা আক্তার হোসেন প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জমিতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, আক্তার হোসেনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আলীনগর গ্রামসহ পুরো দেওঘর ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে আসে। একদিকে ফসল হারানোর আতঙ্ক, অন্যদিকে একজন পরিশ্রমী কৃষককে হারানোর বেদনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, আক্তার হোসেনের মতো অনেক কৃষকই এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং আক্তার হোসেনের পরিবারকে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আক্তার ভাই অনেক আশা নিয়ে এই তিন বিঘা জমি চাষ করেছিলেন। ধারদেনা পরিশোধ করা আর সারা বছরের খাবারের একমাত্র ভরসা ছিল এই ধান। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাওয়া দেখে তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।’

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজকে নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরোধানের জমি তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলে।

দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধানের জমি দেখে আক্তার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার অভিজিৎ সরকার করে জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পরিচয় নিশ্চিত করেছি এবং  রোববার সরজমিনে ক্ষতির পরিমাণ দেখতে কাল সকালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া দুর্যোগকালীন বিশেষ অনুদান প্রদানের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে; আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফসল হারানোর শোক   কৃষকের মৃত্যু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close