পবিত্র কোরবানিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের ঘুমধুম এলাকায় অবৈধ পশুর হাট বসানোকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেটের তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোটির টাকার লেনদেনের আশায় একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মবহির্ভূতভাবে হাট স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত তুমব্রু বাজারে কোরবানির পশুর হাট বসে আসছে। এটি জেলা পরিষদের তালিকাভুক্ত একটি বাজারও। তবে সম্প্রতি একটি পক্ষ কৌশলে ওই হাট সরিয়ে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন টিভি টাওয়ারের পাশে আলুগোলার মাঠ এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ উদ্যোগের পেছনে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সক্রিয় রয়েছেন। তারা বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও প্রভাব খাটিয়ে হাটের ইজারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে একটি আবেদন জমা পড়ার পর বান্দরবান জেলা পরিষদ একটি তদন্ত দল পাঠায়। দলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একই দিন ফিরে যায়। এখন জেলা পরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রস্তাবিত আলুগোলার মাঠ এলাকায় ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনো জনবসতি নেই এবং এটি মূলত উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয় জনগণের জন্য সুবিধাজনক নয়। তাদের মতে, জনস্বার্থ বিবেচনায় হাটটি আগের মতো তুমব্রু বাজারেই রাখা উচিত।
ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সচেতন বাসিন্দারা বলেন, ‘কোরবানির হাট এমন স্থানে হওয়া দরকার, যেখানে স্থানীয় মানুষ সহজে আসা-যাওয়া করতে পারে। কিন্তু প্রস্তাবিত স্থানটি আমাদের জন্য দূরবর্তী ও অপ্রাসঙ্গিক।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কেকে/ এমএস