মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রাজারকুলে বনের জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম আপডেট: ০৪.০৫.২০২৬ ৫:১৪ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল রেঞ্জে বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা, গাছ নিধন ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বন সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধেই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। বন রক্ষার পরিবর্তে চাঁদাবাজি, জমি বাণিজ্য এবং অভিযানের নামে কাঠবাহী গাড়ি আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

স্থানীয়দের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রাজারকুল রেঞ্জের তিন বিট কর্মকর্তা—আলফুয়াদ, শিহাব ও পল্লব কুমার—এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে আইনকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বনের জমিতে ঘর নির্মাণ বা জমি ক্রয়-বিক্রির ক্ষেত্রে রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান।

আপার রেজু বিট এলাকার কালুর দোকান পূর্বপাড়ায় রাসেল নামে এক ব্যক্তির জমিতে পাহাড় কাটার অভিযোগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৭০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে থোয়াইংগা কাটা এলাকায় ফজল আম্বিয়া স্কুলের পেছনে জমিতে ঘর নির্মাণের পর অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জুম্মাপাড়া এলাকায় আবুল হোসেনকে দোকান নির্মাণের সময় ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আপার রেজু বিট কর্মকর্তা আলফুয়াদ বলেন, “আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, মামলা, উচ্ছেদ ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিট পর্যায়ে আদায়কৃত অর্থ রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছেই পৌঁছায়।

এদিকে রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

পাশাপাশি কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজারকুল এলাকায় পাহাড় কাটা ও বনের জমি দখল বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে চট-পলিথিন দিয়ে ঘিরে বনের জমি দখল করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজারকুল বিট এলাকার ঢালার মুখ স্টেশনের পূর্ব পাশে কবরস্থানের সংলগ্ন স্থানে পলিথিন দিয়ে ঘিরে দালান নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, শামসুল আলম নামে এক ব্যক্তি বিট কর্মকর্তার মাধ্যমে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ওই নির্মাণকাজ শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী জানান, “প্রথমে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হলেও পরে এক লাখ টাকার নিচে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।” পরে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। ছাগলিয়াকাটা এলাকায় পাহাড় কেটে ডাম্পারযোগে মাটি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আপার রেজু বিট এলাকার জুম্মাপাড়াতেও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বনের দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  বনবিভাগ   রাজারকুল   বাড়িঘর নির্মাণ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close