সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      ঢাকার চারপাশের নৌ-পথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
দেশজুড়ে
অন্ধ বাবা ও জন্মগত প্রতিবন্ধী ছেলে, ১৫ বছরেও মেলেনি ভাতার কার্ড
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১:২৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

অন্ধকার নেমে এসেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের পাড়িয়াপাড়া পাঁচলগোটা গ্রামের মানিক মিয়ার (৪০) জীবনে। প্রায় ১৫ বছর আগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। শুধু নিজেই নন, তার একমাত্র ছেলে নাদিম হোসেনও (১১) জন্ম থেকেই শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। একই পরিবারে দুই দুইজন প্রতিবন্ধী সদস্য থাকলেও আজ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে জোটেনি একটি সরকারি ভাতার কার্ড।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মানিক মিয়ার সংসারে উপার্জনের কোনো স্থায়ী পথ নেই। দৃষ্টিহীন হওয়ায় তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। স্ত্রী নাদিরা বেগম ও তিন সন্তান নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও ছোট মেয়েটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। অভাবের তাড়নায় প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসা তো দূরের কথা, দুমুঠো অন্ন জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।

ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে মানিক মিয়া বলেন, ‘ভাতার কার্ডের জন্য বছরের পর বছর ইউনিয়ন পরিষদ আর সমাজসেবা অফিসে দৌড়াচ্ছি। কয়েকবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এমনকি কার্ড পাওয়ার আশায় সাবেক এক নারী মেম্বারের স্বামীকে টাকাও দিয়েছিলাম, কিন্তু কাজ হয়নি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একবার সাহায্যের আশায় ইউএনও স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। এতে সমাজসেবা অফিসের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেছে। আমাদের বাবা-ছেলের মধ্যে একজনের ভাগ্যেও যদি একটা কার্ড জুটত, তবে অন্তত খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারতাম।

এ বিষয়ে পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সুরুজ জানান, এতদিন ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ভাতার নতুন বরাদ্দ বন্ধ ছিল। কয়েকদিন হলো কিছু বরাদ্দ এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অন্যদিকে, পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। ওই পরিবার বা তাদের কোনো প্রতিনিধি যদি সরাসরি আমার কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন, তবে আমি দ্রুত যাচাই-বাছাই করে তাদের ভাতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে মানিক মিয়া ও তার ছেলের এই করুণ দশা নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। মানবিক কারণে দ্রুত তাদের ভাতার কার্ডসহ যাবতীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close