এক সময়কার টগবগে তরুণ আলী হোসেনের চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা আর দারিদ্র্যের কষাঘাত তার জীবনকে ঠেলে দিয়েছে অন্ধকার এক গলিতে। বর্তমানে তার দিন কাটছে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে।
আলী হোসেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোক্তার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে একটি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙে যায় আলী হোসেনের। সেই থেকে থমকে যায় তার স্বাভাবিক জীবন। দিনমজুর বাবার অভাবের সংসারে উন্নত চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য ছিল না। ফলে বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যান তিনি। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।
শারীরিক পঙ্গুত্বের চেয়েও বড় আঘাত হয়ে আসে পারিবারিক বিচ্ছেদ। পঙ্গু স্বামীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দেখে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান আলী হোসেনের স্ত্রী। অর্থাভাব আর অসুস্থতার মাঝে জীবনসঙ্গিনীর চলে যাওয়া তাকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দেয়।
আলী হোসেনের দেখাশোনা করার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে যায় গত বছর। তার মা ফাতেমা বেগম ছেলের এই করুণ দশা দেখে এবং পারিবারিক টানাপোড়েনে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার নাম আলি আহাম্মদ হলেও বার্ধক্য আর দারিদ্র্যের কারণে তিনিও ছেলেকে সাহায্য করার অবস্থায় নেই। বর্তমানে তাকে মুখে তুলে দুবেলা খাবার দেওয়ার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই।
আলী হোসন জানান, আমার স্বপ্ন ছিল কাজ করে পরিবারকে সুখে রাখব। কিন্তু ভাগ্য আজ আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। পেটের দায়ে পঙ্গু শরীর নিয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। আমার কেউ নেই দেখার মতো।
একই এলাকার দেলোয়ার জানান, আলী হোসন সুস্থ সবল একজন মানুষ ছিলেন। একটি দুর্ঘটনা তার জীবন পাল্টে গেছে। এখন তার জীবনে সবচাইতে কঠিন সময়। আশা করছি এমন মূহুর্তে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তশালীগণ এগিয়ে আসবে।
গর্জনিয়া টাইম বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় এখন ভিক্ষা করেই কোনোমতে জীবন পার করছেন এই তরুণ। স্থানীয়রা জানান, সঠিক চিকিৎসা ও সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো আলী হোসেন পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতেন। তার এই অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের প্রতি মানবিক সহায়তার জোর দাবি উঠেছে।
কেকে/ এমএস