মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কিশোরগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১:৪৭ পিএম

টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ইটনা, অষ্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে।

সোমবার (৪ মে) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী জেলার ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.২৬ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। 

চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার, বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৫৮ মিটার, যা ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কমে ১.৭২ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সবকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৯ থেকে ৪০৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৩২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সারাদিনই থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে খেতের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কাটা ধান শুকানো নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে খলায় রাখা ধান শুকাতে না পারায় অনেক স্থানে ধানে চারা গজিয়ে গেছে কিংবা পচে যাচ্ছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাওরের কয়েক হাজার পরিবার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শনিবার বিকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, জেলায় মোট ১০ হাজার ৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। উজানের পানির চাপ ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  কিশোরগঞ্জ   পানি বৃদ্ধি   ধান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close