জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ তুলে তাকে কিশোরগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুরে জেলা শহরের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে গৌরাঙ্গ বাজার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নতুন কমিটি বাতিলের দাবি জানান।
জানা যায়, গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ৫ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। এর পরপরই একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর আগে গত বছরের ১৫ মে ঘোষিত কমিটি ২০ দিনের মাথায় স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে কমিটি ঘোষণা করা হলে আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুর রহমান ওয়াকিউরকে বাদ দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের প্রভাবেই ওয়াকিউরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তার অনুসারীরা রাস্তায় নামেন।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার কথা ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দলের ভেতর যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত—প্রতিটি কর্মসূচিতে আমরা রেদোয়ানুর রহমান ওয়াকিউর ভাইয়ের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের রাজপথ দখলে রেখেছিলাম।’
তিনি সাংগঠনিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর জেলা ছাত্রদলের একটি ৫ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হয়েছিল, যা মাত্র ১৯ দিনের মাথায় স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস পর ওয়াকিউর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের জন্য আমাদের ত্যাগ থাকা সত্ত্বেও কেন আমাদের ওপর এই অন্যায় করা হলো? আমাদের অপরাধ কী? আমরা এই বঞ্চনার কারণ জানতে চাই।’
শরীফুল আলমের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কিশোরগঞ্জের ছাত্র-জনতা আজ শরীফুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ বা ময়মনসিংহ—যেখানেই আন্দোলন হয়েছে, আমরা সবসময় সক্রিয় ছিলাম। রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দাবি আদায় করে নেব।’
সবশেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন, মিছিলের শেষ প্রান্তে থাকা কর্মীটিও যেন যথাযথ মূল্যায়ন পায়। কিন্তু বর্তমানে আমরা কী দেখছি? যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতা রেখে চলেছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই এবং যারা কোনোদিন রাজপথের মিছিলে ছিল না—তারাই আজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে চলে এসেছে। এই পকেট কমিটি ও সিন্ডিকেটকে আমরা কিশোরগঞ্জের মাটি থেকে প্রত্যাখ্যান করছি।’
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ‘পকেট কমিটি’ বাতিল করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হুমায়ুন কবির অমি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত রাতুল, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ আহমেদ, গুরুদয়াল কলেজ ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক সানি আহমেদ খান, পৌর ছাত্রদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ পাভেল হাসানসহ নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রি, কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমকে মুঠোফোনে কল দিলে তার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) জানান, স্যার এখন মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন।
কেকে/ এমএস