বড় কোনো দুর্যোগ নয়, টানা ভারী বর্ষণও নয়! স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই উখিয়ার মাঠঘাট আজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের দখলে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে পাশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নেমে আসা প্লাস্টিক, পলিথিন আর পচা আবর্জনায় একের পর এক কৃষিজমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা। জমির ওপর ছড়িয়ে থাকা ময়লার স্তর দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে কিছুদিন আগেও ফসল ছিল।
মাঠে গিয়ে দেখা যায়, জমির বুক চিরে তৈরি হয়েছে নোংরা পানির ধারা। কোথাও জমে থাকা কালচে পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ, কোথাও আবার শুকনো প্লাস্টিকের আস্তরণ। কৃষকেরা বলছেন, মাটি যেন ‘মরে’ গেছে। ফলে চাষের উপযোগিতা দ্রুত হারিয়ে ফেলছে।
রাজাপালং ইউনিয়ননের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন তার নিজস্ব ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও মাঠে গিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো- পরিদর্শনের পরও দৃশ্যপট একই রয়ে গেছে। তার প্রশ্ন, ‘দেখতে আসা হচ্ছে, কিন্তু বাঁচানোর উদ্যোগ কোথায়?’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা খোলা কাগজকে জানিয়েছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি ও বর্জ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী গাইড ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
স্থানীয় কৃষকদের কণ্ঠে হতাশা স্পষ্ট। তাদের অভিযোগ, প্রতি মৌসুমেই একই ঘটনা ঘটছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্যাম্পের ময়লা ভেসে এসে জমিতে পড়ে। জমি পরিষ্কার করতে গিয়ে খরচ বাড়ছে, কিন্তু লাভের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে অনেকেই ধীরে ধীরে চাষাবাদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কক্সবাজার অঞ্চলের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। সেই বর্জ্য সঠিকভাবে আটকে রাখা বা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের জমিতে। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্থানীয়দের মতে, সমস্যার গভীরতা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে সাময়িক পরিষ্কার বা লোক দেখানো উদ্যোগে আর কাজ হবে না। প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান যেমন কার্যকর বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, আলাদা নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বাস্তব সহায়তা।
এলাকার মানুষের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উখিয়ার কৃষি ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তখন শুধু জমি নয়, হারিয়ে যাবে মানুষের জীবিকা, বদলে যাবে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।
কেকে/ এমএস