বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ফের গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন পর সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে দুই শতাধিক গুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বিজিবি ও সীমান্ত সংলগ্ন বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমধুমের জলপাইতলী, বেতবুনিয়া, তুমব্রু বাজার ও চাকমা পাড়ার বিপরীতে মিয়ানমারের রাইট তুমব্রু ও ঢেকিবুনিয়া এলাকা থেকে এসব গুলির শব্দ ভেসে আসে।
স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মিকে লক্ষ্য করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘুমধুম-তুমব্রু-বালুখালী সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার বলেন, “গত বছরের আগস্টের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আবার গুলির শব্দ শোনা যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। যদিও ঘটনাটি মিয়ানমারের ভেতরে ঘটছে, তবুও আগের মতো সীমান্তঘেঁষা পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।”
এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল এস কে এম খায়রুল আলম (পিএসসি, পিবিজিএম) জানান, শূন্যরেখা থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার ভেতরে থেকে ১০০ থেকে ১৫০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে কারা কার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।”
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কেকে/এলএ