২০১৩ সালের ৫-৬ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত সহিংস দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচার ও শহিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবিতে) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১টায় চবির শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে কওমি স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চাকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনটি আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী তক্বী উল্লাহ উসমানির কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়।
মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কওমি স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শহিদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, ছাত্র মজলিস চবি শাখার সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি, ইশা ছাত্র আন্দোলনের সহ সভাপতি রাকিব, ভয়েস অফ স্টুডেন্টসের সভাপতি আশিক প্রমুখ।
মানববন্ধন থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে ৯টি দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন লিখিতভাবে দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো ২০১৩ সালের ৫-৬ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠন করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা; তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা; ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দায়ী পক্ষকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা; শহিদ ও আহতদের পরিবারের জন্য যথাযথ পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও ট্রমা কেয়ারের ব্যবস্থা গ্রহণ; শহিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের সঠিক নাম-পরিচয় যাচাই করে একটি সরকারি তালিকা প্রকাশ করা।
আলেমদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা; ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উত্থাপিত ১৩ দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ; ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সকল তথ্য, ভিডিও, নথি ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ ও জনসম্মুখে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ইতিহাস বিকৃতি রোধ করা যায় এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের ক্ষেত্রে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ নিশ্চিত করা এবং মিডিয়া ও তথ্যপ্রবাহে কোনো ধরনের বাধা প্রদান না করার নিশ্চয়তা দেওয়া।
কেকে/এমএ