মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
চাচার প্রতারণায় সাপ-বৃষ্টির সঙ্গে মানসিক প্রতিবন্ধীর লড়াই
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

নীলফামারীর ডোমারে মানসিক প্রতিবন্ধী ভাতিজা ময়নুল ইসলামের সঙ্গে প্রতারণা করে বসতভিটা লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাচা কছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে বেড়াছাড়া একটি জরাজীর্ণ টিনের চালার নিচে সাপ আর বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করে জীবন কাটাচ্ছেন ময়নুল।

জানা গেছে, ময়নুল ইসলামের জীবন একসময় আর পাঁচজনের মতোই ছিল। বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন এবং মায়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ময়নুলের এই চরম অসহায়ত্বকে পুঁজি করে চাচা কছির ও তার ছেলে আ. ছালাম জমি দখলের ছক আঁকেন। ময়নুলকে সুস্থ করার নাম করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যত্ন নেওয়ার অভিনয় করেন তারা। এরপর একদিন কৌশলে তাকে ডোমার রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে টিপসই ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১০ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেন কছির। 

আরও জানা গেছে, জমি হস্তগত করার কিছুদিনের মধ্যেই ময়নুলের দীর্ঘদিনের পুরোনো বসতঘরটি ভেঙে দেন তারা। এখন ময়নুল একটি জরাজীর্ণ টিনের চালার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অমানবিকতার এখানেই শেষ নয়; অভিযোগ উঠেছে, কছির উদ্দিন ও তার ছেলেরা সেই চালার নিচে থাকা বেড়া এবং বিছানাপত্রও কেড়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে বেড়া না থাকায় বৃষ্টির পানি ময়নুলের শরীরে পড়ছে। কাদাপানিতে ভিজে একাকার হয়ে সেই চালার নিচেই মানবেতর রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে।

ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ


প্রতিবেশী সাইদুল ইসলাম জানান, গত রাতে আমি ময়নুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছি তার শরীরের ওপর দিয়ে একটি বিষধর সাপ চলে যাচ্ছে। একজন মানুষের এমন করুণদশা দেখার মতো কেউ নেই। স্থানীয় যুবকরা পলিথিন দিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা কাজে আসছে না।

এদিকে জালিয়াতির বিষয়টি ময়নুলের বাবা কফিল উদ্দিন জানতে পেরে মামলা করেছিলেন। তবে অভাবের তাড়না এবং ময়নুলের মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে চতুর কছির আদালতে কৌশলে জয়ী হন। ময়নুলও মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় একতরফা রায় হাতিয়ে নেন কছির। এই জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে সম্প্রতি এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত কছির উদ্দিন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিনুর ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম বলেন, ময়নুলের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সালিশ বৈঠকে প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়া জমির মধ্যে তিন শতক জমি ফেরত দিতে চেয়েছিলেন কছির। কিন্তু ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও তিনি এখনো সেই জমি ফেরত দেননি, বরং নানাভাবে টালবাহানা করছেন।  

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি পদে আসীন ব্যক্তিদের কাছ থেকে সমাজ এমন অমানবিক আচরণ প্রত্যাশা করে না। কছির উদ্দিন ফায়ার সার্ভিসের বাবুর্চি এবং তার ছেলে আ. ছালাম একজন কৃষি কর্মকর্তা। অবিলম্বে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে অভিযুক্ত কছির ও ছালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা। 

ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, এখনো কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেকে/এজে


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close