মৌলভীবাজারে সরকারি জমিতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই মার্কেট নির্মাণ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পুলিশ লাইন্সের গরু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে। মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান সড়কের পুরাতন সদর থানার জমিতে তার তত্ত্বাবধানে একটি একতলা টিনশেড মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৩৫০ বর্গফুটের এই মার্কেটে ৯টি কক্ষ রয়েছে। তবে সরকারি সম্পত্তিতে এমন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতটি কক্ষের ভাড়াটেরা ইতোমধ্যেই দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাকি দুইটি কক্ষ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) জন্য।
শুভ নামে মার্কেটের এক ভাড়াটে বলেন, ‘৫ বছরের জন্য ৩ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে আমি একটি কক্ষ নিয়েছি। এখানে দোকান নিয়ে ব্যবসায় করব।’
জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে ও কম মূল্যে দুধ সরবরাহের জন্য পুলিশ লাইন্সে বাছুরসহ সাতটি গরু ছিল। আগের এমপির সময় সদস্যরা প্রতি লিটার দুধ মাত্র ৪০ টাকায় পেতেন। কিন্তু বিল্লাস হোসেন যোগদানের পর একটি গরু মারা গেলে বাকিগুলো বিক্রি করে দেন। এর ফলে, স্বল্পমূল্যে দুধ পাওয়ার সুবিধাটি বন্ধ হয়ে গেছে। যা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করলেও কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।
এদিকে, শুধু বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ নয়, পূর্ববর্তী এসপির সময় চালু হওয়া ‘আপনার এসপি’ নামে জনসেবামূলক উদ্যোগটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এই সেবার মাধ্যমে জেলার সাতটি থানায় বসেই নাগরিকরা সরাসরি ভিডিও কলে এসপির সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। এখন আর এই সেবা থানাগুলোতে পাচ্ছেন না সেবাগ্রহীতারা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মো. বিল্লাল হোসেন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘এই মার্কেটটি পুলিশের কল্যাণে বানানো হয়েছে। বড় ধরনের স্থাপনা নির্মাণে সাধারণত পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে এই মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আমার আলাপ হয়েছে।’
তবে কর্তৃপক্ষের পরিচয় স্পষ্ট করেননি তিনি। কর্তৃপক্ষ কে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে গেছেন এসপি।
পুলিশ লাইন্সের গরু বিক্রির বিষয়ে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ লাইন্সে ৪টি গরু ও ৩টি বাচ্চা ছিলো। এরমধ্যে ১টি মারা যাওয়ায় এবং পুলিশ লাইনে গরু রাখার নিয়ম না থাকায় বাকিগুলো বিক্রি করা হয়েছে।’
তবে বিক্রির প্রক্রিয়া ও অর্থের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সম্পত্তিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মার্কেট নির্মাণে আনুমোদন না থাকায় পুরো বিষয়টি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
সিলেট রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখার কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অনুমতির বিষয়ে আমি অবগত নই। অনুমতি নেওয়া হলে তা আমার জানা থাকার কথা।’
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেভিনিউ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ নভেম্বর মৌলভীবাজারের এসপি পদে যোগ দেন বিল্লাল হোসেন।
কেকে/এমএ