মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
কোথাও নিরাপদ নয় শিশুরা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৪৮ এএম আপডেট: ০৬.০৫.২০২৬ ৮:৫৯ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

সম্প্রতি নেত্রকোনায় শিক্ষকের ধর্ষণে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ১১ বছরের এক শিশু। এ ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পরই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে সারা দেশ। শুধু নেত্রকোনার এ ঘটনাই নয়, সারা দেশে হরহামেশাই ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। শিশু নিগ্রহের তালিকায় রয়েছে নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক, এমনকি সৎ বাবাও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে শিশু নিগ্রহ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয় শিশুরা। বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিগত নানা বিষয় এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনার মধ্যেই মানিকগঞ্জে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত সোমবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার মতি মিয়া পাঁচ বছর আগে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে বিয়ে করেন। পরে তার ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এক বছর ধরে ওই শিশুটির ওপর সৎ বাবার কুনজর পড়ে।

গত শুক্রবার রাতে মতি মিয়া শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। সকালে শিশুটির মা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শিশুটির মা বলেন, ‘মতি মিয়া একজন মাদকাসক্ত। এর কয়েক মাস আগেও সে শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। পরে এলাকার লোকজন ও মতি মিয়া বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। এ বিষয় নিয়ে আমাকে একাধিকবার মারধর করে মতি মিয়া। প্রশাসনের কাছে আমি উপযুক্ত বিচার চাই।’

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক শিক্ষার্থী একটি ফেসবুক পোস্টে শিশু নিগ্রহের আরেকটি ঘটনা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি জানান, মাত্র চার বছর বয়সী এক শিশু আপন নানার দ্বারা যৌন নিগ্রহের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে এ ধরনের রোগী প্রতিনিয়তই আসছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী নিকটজনের দ্বারাই নিগৃহীত হয়। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী কোনো আইনি সুরক্ষাও পায় না। যেহেতু নিকট আত্মীয়ই নির্যাতনকারী, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মান রক্ষায় বিষয়টি চেপে যাওয়া হয়।’

ইউনিসেফের তথ্যমতে, প্রতি আটজনে একজন নারী ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে গত আট বছরে ৩ হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে; ধর্ষণের শিকার হয়েছে আরও বেশি। এদের মধ্যে অন্তত ৫৩৯ জনের বয়স ছয় বছরের কম। আর সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে আছে ৯৩৩ জন। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিচিতদের দ্বারাই শিশুরা যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হয়।

নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা অধিকার কর্মীরা বলছেন, মূলত নিকটাত্মীয়ের প্রতি যে বিশ্বাস থাকে, তা ব্যবহার করেই এই ধরনের কাজগুলো করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং আইনের প্রয়োগ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করছেন তারা।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, ‘শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই যৌন নির্যাতনকারীরা শিশুর পরিচিতি- হয় তার আত্মীয়, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কেউ।’ শিশুদের ওপর হওয়া যৌন নিপীড়ন নিয়ে ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘চাইল্ড সেক্সুয়াল এবিউজ ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীর পরিচিত কেউ থাকেন।

এ নিয়ে আরেক নিশাত সুলতানা বলেন, কিছু মানুষ তার অবদমিত ইচ্ছা পূরণের জন্য সহজ রাস্তা খোঁজেন। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ উপায় থাকে পরিবারের শিশুরা। 

কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না থাকার কারণে শিশুদের সঙ্গে হওয়া যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে বলে জানান অধিকারকর্মী শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আসলে প্রচুর পেডোফাইল (শিশুকামী) আছে। ল এন্ড অর্ডার না থাকায় একটা সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চারদিকে যে, আমি যা খুশি করতে পারি।’

অধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। 

শাশ্বতী বিপ্লব বরেন, অপরাধীরা যে কয়টি কারণে অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে, তার বড় একটি কারণ হলো সাজার ভয়। একসময় বাংলাদেশে এসিড সহিংসতা অনেক বেশি ছিল। সরকার তৎপর হওয়ার পর তা কমেছে। একইভাবে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করে শাস্তির কিছু উদাহরণ তৈরি করা হয়, এটাও কমবে।’ 

তবে কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করেই শিশুদের সঙ্গে হওয়া যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন এই অধিকারকর্মী। কারণ অনেক ঘটনাই পুলিশ পর্যন্ত আসে না। সেক্ষেত্রে অভিভাবকদের দিক থেকে সচেতনতা এবং নজরদারি বাড়ানো এবং শিশুদের এ বিষয়ে শেখানো প্রয়োজন।

কেকে/এলএ




আরও সংবাদ   বিষয়:  নিরাপদ   শিশু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close