সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে নাস্তায় পাউরুটির সাথে কাঁচকলা, মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর ক্ষোভ
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা জব্বার মাস্টারের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৬৫) লিভারের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সুস্থ হওয়ার আশায়। কিন্তু সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা আর নিম্নমানের খাবার নিয়ে চরম ক্ষোভ ও বিপাকে পড়েছেন এই বৃদ্ধা।

সরেজমিনে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে এ চিত্রের দেখা মেলে। 

এর আগে, কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকালের নাস্তায় রুটি ও সিদ্ধ ডিমের সাথে দেওয়া হয় একটি কাঁচকলা। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুরছে। 

বর্তমানে তিনি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের হেপাটোলজি ইউনিটের ৪১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী রোগী আছিয়া খাতুন (৬৫) করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের হালগড়া গ্রাম বীর মুক্তিযোদ্ধা জব্বার মাস্টারের স্ত্রী।

বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের সামগ্রিক খাবার সরবরাহের বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ ও বয়স্ক রোগীদের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও, কাঁচা কলা বা অসম্পূর্ণ নাস্তা দেওয়ার বিষয়টি রোগীদের শারীরিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোগী আছিয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এখানে দীর্ঘ ১২ দিন যাবত চিকিৎসাধীন রয়েছি। গতকাল আমাকে খাবারের সঙ্গে একটি কাঁচা কলা, একটি পাউরুটি এবং একটি ডিম দেওয়া হয়েছে। ডিম ও রুটি খাওয়ার মতো হলেও কলাটি ছিল অত্যন্ত কাঁচা। এই কলা যদি আরও পাঁচ দিনও রাখা হয়, তবুও তা পাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি খেতে হলে পুড়িয়ে ভর্তা করে খাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন বয়স্ক মানুষ এবং লিভারের জটিলতায় ভুগছি। এমন অবস্থায় আমি কীভাবে কাঁচা কলা খাব? কেন বা কী উদ্দেশ্যে রোগীদের এমন কাঁচা কলা দেওয়া হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়। গত ১১-১২ দিন ধরেই এখানে এমনটা চলছে। মাঝেমধ্যে একটু আধটু নরম কলা দেওয়া হলেও, বেশিরভাগ সময় কাঁচা কলাই জোটে। কোনোদিন ডিম থাকে না, তো কোনোদিন কলা থাকে না; তবে কেবল রুটিটাই প্রতিদিন নিয়মিত দেওয়া হয়।’

রুগীর বড় মেয়ে জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার মারে নিয়া আমি ১২ দিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি। এখন সকালে নাস্তা দেয়—কলা, রুটি আর একটা ডিম। কোন দিন কলা পাইলে ডিম পাই না, ডিম পাইলে কলা পাই না। আর কলাও দেয় কাঁচা। যদিও পাকা থাকে মাঝে মাঝে, কিন্তু আকারে হয় ছোট। এখন এগুলা তো আমার মা তো বয়স্ক মানুষ, এগুলা তো খাইতে পারে না। আর কলা রুটি যে দেয় সবাই কিন্তু পায় না আমি দাঁড়ায়ে থাইকা দেখছি, অনেক মানুষ, ২০-২৫-১০০ এরকম মানুষ নাস্তা। সব খাবারই দেখলাম এরকম ভাবেই দেয়। আমরা এর ন্যায্য বিচার চাই।’

রুগীর স্বজন মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের এক অংশে আলো থাকলেও অন্য অংশে কোনো বাতি নেই, যা রোগীদের জন্য চরম অস্বস্তিকর। টয়লেটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সেখানে ব্যবহারের মতো ন্যূনতম কোনো পরিবেশ নেই। ওয়ার্ডে পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পাঁচ-ছয় তলা থেকে নিচে নেমে অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সেবা নিতে এসে পাঁচ তলা থেকে বারবার এক তলায় যাওয়া-আসা করার ফলে সুস্থ হওয়ার বদলে রোগীর স্বজনেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই মানবেতর পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে এবং রোগীদের এই চরম ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’

এ বিষয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সিদ্দিকী এন্টারপ্রাইজ হাসপাতালে খাবার সরবরাহ করে থাকে। বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। জানালে ব্যবস্থা নিতাম। এখন যেহেতু জানলাম খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর সিদ্দিকী এন্টারপ্রাইজের কারও নাম্বার আমার কাছে নেই।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই, পরিচালকের সাথে কথা বলে দেখছি।’

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close