নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। একের পর এক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (৬ মে) ভোর প্রায় ৪টার দিকে পৌর শহরের বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজের সামনে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এতে ইমাম মাহফুজ আলম, ব্যবসায়ী আনছু ও জাহের শাহসহ অন্তত পাঁচজন ছিনতাইয়ের শিকার হন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছিনতাইকারীরা অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পরপরই তারা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়নি।
শুধু এই ঘটনাই নয়, গত ১৫ দিনের মধ্যে পৌর শহরে একই কৌশলে অন্তত ৭টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫টি ঘটনা ঘটেছে থানা কমপ্লেক্সের অদূরে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া অর্থ বা মালামাল।
এর আগে গত ২ মে (শনিবার) গভীর রাতে সরকারি কোয়ার্টারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে বেঁধে অস্ত্রের মুখে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়।
এছাড়া ১৫ এপ্রিল (বুধবার) থানার অদূরে সোনাউল্লার বাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি সংঘটিত হয়, যেখানে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করা হয়। একই রাতে আনন্দনগর এলাকায় রমজান হাজির বাড়ি থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি দুধেল গাভী লুট হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ছিনতাই ও ডাকাতি। থানার আশপাশ এলাকাতেও অপরাধ ঘটলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মানুষের আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
তাদের ভাষায়, এখন ব্যবসায়িক লেনদেন শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির পাশাপাশি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুরুল আলম ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে—এটি স্বীকার করে বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।”
কেকে/এজে