বগির ঘাটতির কারণে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ‘এগারো সিন্ধুর প্রভাতী’ ও ‘এগারো সিন্ধুর গোধূলি’ ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ জংশন ভৈরব স্টেশনের জন্য বরাদ্দকৃত ট্রেনের বগি ‘শপ ওভার ডিউ’ হয়ে যাওয়ায় গত ২ মে থেকে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভৈরবসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ‘এগারো সিন্ধুর প্রভাতী’ ও ‘গোধূলি’ ট্রেনের ছয়টি বগি মেরামতের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় তা প্রত্যাহার করে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। ফলে ভৈরব স্টেশনের জন্য বরাদ্দ ৪০টি শোভন টিকিট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মাত্র ১০টি শোভন চেয়ার, ৪টি প্রথম শ্রেণি এবং ৩টি কেবিন আসন থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
ভৈরব একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী ঢাকা যাতায়াত করেন। সার, কয়লা, পাথর ও কাপড়ের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীরাও এই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। টিকিট সংকটে তারা বাধ্য হয়ে সড়কপথে যাতায়াত করছেন, ফলে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময় নষ্ট হচ্ছে।
স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী সুলাইমান বলেন, ভৈরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনেও বরাবর টিকিট সংকট থাকে, এখন তা আরও তীব্র হয়েছে। দ্রুত বগি ও আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
আরেক যাত্রী আব্দুল আজিজ বলেন, অসুস্থ রোগীরা এই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল হলেও সিট না থাকায় তারা বিপাকে পড়ছেন। দ্রুত নতুন বগি সংযোজনের দাবি জানান তিনি।
ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু ইউসুফ জানান, বগিগুলো মেরামতের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। তবে দ্রুত মেরামত শেষে পুনরায় সংযুক্ত করা বা বিকল্প কোচ সংযোজনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কেকে/ এমএস