মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পৃথক দুটি স্থান থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) লাশ দুইটি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার সকালে উপজেলার ৮ নম্বর কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের রামপাড়া এলাকায় অজয় হাজরার বসতবাড়ির পুকুর থেকে মোহাম্মদ হোসেন (৫৪) নামে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্থানীয়রা এ পুকুরে এক ব্যক্তির পা ভাসতে দেখে সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মোহাম্মদ হোসেন কুমিল্লার লাকসাম থানার আলোকদিয়া ইউনিয়নের খোজারকলা গ্রামের মৃত শরবত আলীর ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিলেট অঞ্চলে বসবাস করতেন।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের ফুসকুড়ি চা বাগানের ৪ নম্বর বস্তির বাসিন্দা সবুজ কর্মকারের বসতবাড়ির পুকুর থেকে মো. আবিদ আলী (৫৮) নামে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি সিন্দুরখান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ষাড়েরগজ (বটেরতল) গ্রামের মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের মেয়ে জান্নাত আক্তার পান্না বলেন, ‘আমার আব্বা গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িত ফিরেননি। আমরা অনেক খোঁজাখুজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে আমরা শ্রীমঙ্গল থানায় জিডি করেছি। তবে আমার আব্বা বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে ভুট্টো কর্মকার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গরু দেখতে যাবেন বলে বের হয়েছিলেন। আমার আব্বার লাশ যে পুকুরে পাওয়া গেছে ওই পুকুরসহ আশপাশের সকল স্থানে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তখন কোনো লাশ পাইনি। আমার আব্বার চোখ ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আব্বাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে যারা পুকুরে ফেলে গেছে তদন্ত করে খুনিদের গ্রেপ্তারে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
নিহত আবিদ আলী গ্রামের কৃষি কাজ করতেন। তার এক কিশোর ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। দুই মেয়েই বিবাহিত। এর মধ্যে এক মেয়েকে কয়েক মাস আগে বিয়ে হয়েছে।
এ বিষয়ে সিন্দুরখান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল খায়ের সিদ্দীক মুরাদ বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানতে পেরেছি তিনি বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দুই দিন ধরে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি কওে তার কোনো সন্ধান মিলেনি। অবশেষে শনিবার বিাঁলে খবর পেয়ে ফুসকুড়ি চা বাগানের ৪ নম্বর বস্তির এক ব্যক্তির বাড়ির পুকুর থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের শংকর টিলা লেক থেকে অন্তর সাহা (২৫) নামে অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
একদিনের ব্যবধানে একই উপজেলায় পরপর তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কেকে/এমএ