বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর তিন অঙ্গসংগঠনের জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এটিই প্রথম মতবিনিময় সভা।
সভায় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহার বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে। দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো, আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম, তার বাস্তবায়ন করা।’
তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন। আমি বলেছিলাম, নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।’
নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে, বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পর এই ইশতেহার আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোট দেওয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এ ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম, আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।’
সুশাসনের প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে, আমরা সুশাসন দেব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। নারী, পুরুষ, শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।’
বাকস্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম, তখন বলেছিলাম— আমাদের ওপরে যেরকম অত্যাচার-নির্যাতন হচ্ছে, গুম-খুনের শিকার হতে হচ্ছে, তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক, যেখানে আমরা বিতর্ক করব, স্বাধীনভাবে নিজেদের মতপ্রকাশ করব।’
সরকার ও দলের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে, কিন্তু বিএনপি সরকার। সেজন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।’
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় কেআইবি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভা শুরু হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা বড় রকমের যুদ্ধ শেষ করে এসেছেন। সেই যুদ্ধটি হচ্ছে দেশের মানুষকে রক্ষা করার, দেশকে রক্ষা করার এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার। সেই যুদ্ধে আপনারা জয়ী হয়েছেন। সংসদে আপনারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছি। আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছি আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে সরকারে এসেছি। যেদিকে তাকাবেন, সেদিকে শুনবেন নাই, নাই, নাই। আসলে অবস্থাটা তাই। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা, টেনে তোলা— দলকে শুধু নয়, সরকারকে এবং রাষ্ট্রকে। এটাই আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের নেতা তারেক রহমান, যিনি নির্বাসনে থেকেও আমাদেরকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দেশে সফল একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন এবং একইসঙ্গে সফল নির্বাচন জয়ের মাধ্যমে সরকারে এসেছেন।’
তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে যে, আমরা তার এই নেতৃত্ব, দলের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ— এসব স্মরণ করে দলকে আরও সুসংগঠিত করি। তৃণমূল পর্যায়ে সব মানুষের কাছে আমাদের দলের যে কাজগুলো হচ্ছে, সেগুলো পৌঁছে দেই এবং একটি যোগসূত্র রক্ষা করি।’
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এলএ