নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের চাটখিল-খিলপাড়া সড়কের সংস্কার কাজ শেষ না হতেই কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। সংস্কার কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একপর্যায়ে তারা কাজও বন্ধ করে দেন।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন চাটখিল-খিলপাড়া সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাটখিলের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলের জন্য এ সড়ক ব্যবহার করেন। গত ৮-১০ বছর ধরে সড়কটির অবস্থা বেহাল।
গত ২-৩ বছর ধরে এটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কটি চাটখিল থেকে খিলপাড়া হয়ে দত্তপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। দত্তপাড়া থেকে লক্ষ্মীপুর অংশের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চাটখিল থেকে খিলপাড়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি টাকা।
২০২২-২৩ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রথম দফায় টেন্ডার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করায় পরে পুনঃটেন্ডারের মাধ্যমে জে.বি এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের নাম, বাস্তবায়নকারী সংস্থা, বরাদ্দসহ বিভিন্ন তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড না টানিয়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে।
একই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগও রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় মালামাল ব্যবহার না করে চাটখিল বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে কাজ শুরু করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে কার্যাদেশের নিয়মনীতিও উপেক্ষা করা হয়েছে। কাজ শেষ না হতেই ছায়ানী, টগবা-সহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। খিলপাড়া দক্ষিণ বাজারের পশ্চিম পাশে বুধবার রাতে কাজ চলাকালে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালক ইসমাইল হোসেন জানান, সড়কটির সংস্কার কাজ এখনো চলছে। এর মধ্যেই কয়েক জায়গায় ধস নেমেছে, পলেস্তারা উঠে গেছে।
শিক্ষার্থী আবুল হোসেন বলেন, “নির্মাণকাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করায় কাজ শেষ না হতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধসসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।”
ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ বলেন, “সংস্কার করা এ সড়কটি ২-১ বছরের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। এটি সংস্কার করে কোনো লাভ হয়নি।”
তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোরশেদ আলম জানান, এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত থেকে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করবেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, সড়কটির পাশে অনেক পুকুর রয়েছে। অতিবৃষ্টিতে পুকুরের পাড় ধসে পড়েছে। কাজ চলমান থাকায় ধসে পড়া জায়গাগুলোসহ সড়কের অন্যান্য কাজও করা হবে।
কেকে/এলএ