দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় প্রকৌশলীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি তুলেছেন প্রকৌশলীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এ প্রেক্ষাপটে বিশিষ্ট প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে।
প্রকৌশলীদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বড় অংশই অবকাঠামো, জ্বালানি, পানি, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি ও নগর ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। এসব খাতের পরিকল্পনা, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে প্রকৌশল জ্ঞান অপরিহার্য। অথচ নীতিনির্ধারণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রকৌশলীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এ প্রেক্ষাপটে বিশিষ্ট প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে।
তারা বলছেন, শাহরিন ইসলাম তুহিন দীর্ঘদিন ধরে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা এবং পেশাজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং জাতীয় উন্নয়ন সম্পর্কে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি মন্ত্রিসভায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তাদের মতে, বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অনেক সিদ্ধান্ত বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক ব্যাখ্যা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এতে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, ব্যয়-সাশ্রয়, গুণগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো সবসময় সমান গুরুত্ব পায় না। সেই বিবেচনায় শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা হবে প্রকৌশলী সমাজের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় নতুন কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদেও দুজন নতুন সদস্য যোগ হওয়ার আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী এবং দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরও পরিবর্তন হতে পারে।
কেকে/এলএ