চিকিৎসকদের চেম্বারে ওষুধ প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়া, অহেতুক হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধের দাবিতে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) পাকুন্দিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচি শেষে প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) রূপম দাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপির অনুলিপি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালিত অভিযানে ওষুধ প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় ওষুধের বৈজ্ঞানিক তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অথচ মাঠপর্যায়ে তাদের অপমান ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় ফারিয়ার পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: ওষুধ প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ বলা বন্ধে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা প্রদান, অযৌক্তিক গ্রেপ্তার ও অপমানজনক আচরণ বন্ধ, গণমাধ্যমে দায়িত্বশীল ও সঠিক সংবাদ প্রচার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফারিয়া প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বৈঠকের আয়োজন এবং ওষুধ প্রতিনিধিদের পেশাগত কার্যক্রমের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।
সমাবেশে পাকুন্দিয়া ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. সাদবার হোসেন বলেন, যারা আমাদের দালাল বলছেন, তাদের চেয়ে আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো অংশে কম নয়। আমরা মূলত নতুন ওষুধের বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে চিকিৎসকদের অবহিত করি। আমাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চিকিৎসকরা নতুন ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। আমরা দালাল নই, বরং স্বাস্থ্যসেবার সেতুবন্ধন।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবার একটি অপরিহার্য অংশ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি প্রতিনিয়ত অপমানিত হতে হয়, তবে দেশের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমরা এই সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এসময় প্রতিনিধিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
পাকুন্দিয়া ফারিয়ার সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাদবার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আলম, পুলেরঘাট ফারিয়ার সভাপতি মো. শামসুল আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সংগঠনে শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দালাল নির্মূলে এনএসআই ও শাহবাগ থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪৯ জনকে আটক কর।অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।
কেকে/ এমএস