বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাংসদ এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন এদেশের ইসলামী পুনর্জাগরণের অন্যতম রূপকার। তিনি জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন ও মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার জীবন ছিল ঈমান, আমল, তাকওয়া, সাহস ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে এটিএম আজহারুল আরও বলেন, ‘জুলুম-নির্যাতন, কারাবরণ ও ফাঁসির মঞ্চও তার আদর্শিক অবস্থান থেকে তাকে বিচ্যুত করতে পারেনি।’
‘নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। শহীদদের রক্তের ওপরই একদিন ইনশাআল্লাহ সত্য ও ন্যায়ের বিজয় প্রতিষ্ঠিত হবে।’
তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো নেতৃবৃন্দর হত্যার শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা।’
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাংসদ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সাংসদ ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর আবু তালেব মন্ডল, নিজামীর পুত্র ও সাংসদ নাজিবুর রহমান মোমেন, সাংসদ মাওলানা মোহাম্মদ আলী আজগর, পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার খান।
অনুষ্ঠানে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মাওলানা নিজামী ছিলেন কোরআনের আলোয় গড়া এক দূরদর্শী দাঈ। তিনি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তার বিরুদ্ধে যে অবিচার করা হয়েছে, ইতিহাস একদিন তার সঠিক বিচার করবে।’
তিনি বলেন, ‘শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রা বন্ধ করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। কারণ, এ আন্দোলনের ভিত্তি মানুষের হৃদয়ে, ঈমানের শক্তিতে ও আল্লাহর সাহায্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’
আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘মাওলানা নিজামী ছিলেন বিনয়, সৌজন্য ও মানবিকতার অনন্য প্রতীক। তিনি মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, সহজেই আপন করে নিতেন এবং দ্বীনি দায়িত্ব পালনে কর্মীদের সাহস জোগাতেন। সাঁথিয়া-বেড়ার মানুষ তার সততা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে হৃদয়ের গভীর আসনে স্থান দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নিজামী সাহেব প্রমাণ করেছেন, আদর্শিক নেতৃত্ব কখনও মৃত্যুতে থেমে যায় না; বরং তা নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখায়।’
নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘আমার পিতা আমাদের শিখিয়েছেন—ক্ষমতা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। তিনি সবসময় বলতেন, মানুষের সেবা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাই ইসলামী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। তার স্মৃতির প্রতি প্রকৃত সম্মান হবে তার আদর্শকে ধারণ করে নৈতিক, কল্যাণমুখী ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করা।’
মোহাম্মদ আলী আজগর বলেন, ‘সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় মাওলানা নিজামী ছিলেন বিরল ব্যক্তিত্ব। তিনি শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, শিল্প ও সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। নিজামী সাহেবের জীবন আমাদের শেখায়—আদর্শের পথে ধৈর্য, ত্যাগ ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলই হলো সফলতার চাবিকাঠি।’
অন্য বক্তারা বলেন, ‘মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন যুগস্রষ্টা এক ইসলামী চিন্তাবিদ, দক্ষ সংগঠক ও জনমানুষের নেতা। তিনি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা এবং জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার শাহাদাত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য হতাশার নয়; বরং নব উদ্দীপনায় দ্বীনের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আবু সালেহ মো. আব্দুল্লাহ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল মালেক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুহাম্মদ ইদ্রিস আলম প্রমুখ ।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
কেকে/এমএ