নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায় খাল খননের নামে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে, প্রকল্প কমিটি না করে, প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যাদি সম্বলিত সাইন বোর্ড না টানিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, খাল খনন কর্মসূচির জন্য ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ৫১ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ টাকা দিয়ে উপজেলার ১ নম্বর শাহপুর ইউনিয়নের পুরুষোত্তমপুর থেকে মমিনপুর হয়ে ডুমুরিয়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি নামক একটি প্রকল্পে নেওয়া হয়। গত ২৫ মে সাংসদ এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ খোকন এ প্রকল্পের কাজ করছেন। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত কোন কমিটি গঠন করা হয়নি এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তার অফিসে কোন প্রকার প্রকল্প কমিটি জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি কাজ শুরুর পূর্বে প্রকল্পের যাবতীয় তথ্যাদি উল্লেখ্য করে সাইন বোর্ড টানানোর সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এখানে তা উপেক্ষিত হয়েছে। তাছাড়া কাবিখা কাজে স্থানীয় শ্রমিকদের কাজ করানোর জন্য তালিকা নেওয়া হলেও এদের দিয়ে কোন কাজ করানো হচ্ছে না। ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খননের কাজ করা হচ্ছে।
খাল খনন করতে যাদের জমি নষ্ট হচ্ছে, তাদেরকে মাটি না দিয়ে ট্রাকে করে অন্যত্র মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
মমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফ উল্লাহ বলেন, ‘গত ৪-৫ দিন থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে। মমিনপুর গ্রামের অথবা জমির ক্ষতিগ্রস্থ মালিকদের মাটি দেওয়া হচ্ছে না। এ কয়দিনে ৪০০০-৫০০০ হাজার টাকার মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জানানো হয় ইউএনওর অনুমতি নিয়ে তারা এ কাজ করছে।’
আমির হোসেন বলেন, ‘এ খাল খনন করে প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা যাবে। ইউপি চেয়ারম্যান অতি কৌশল করে তার অনুসারী কয়েকজনকে নিয়ে এ টাকা কুক্ষিগত করার পাঁয়তারা করছে।’
তিনি জানান, এখানে খাল খননের নামে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মো. আব্দুল্লাহ খোকন বলেন, ‘আমি ২-১ দিনের মধ্যে ব্যাকডেট দিয়ে প্রকল্প কমিটি দাখিল করব। প্রশাসন থেকে আমাকে কাজ শেষ করার তাড়া দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের তথ্য সম্বলিত সাইন বোর্ডটি টানিয়ে দেব।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাটি বিক্রির সংবাদ পেয়েছি। চেয়ারম্যানকে মাটি বিক্রি বন্ধ রাখার নিদের্শ দিয়েছি। বর্তমানে মাটি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সরকারি কাজের এ মাটি টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যোগ দেবেন। তখন এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
কেকে/এমএ