সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
সাভারে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে বনের জমি বলে প্রচার
মো. শরিফ শেখ, সাভার
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

সাভারে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে বনের জমি উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন জমির প্রকৃত মালিক ও সরকারি কর্মকর্তারা।

জানা যায়, সাভার উপজেলার কবিরপুর মৌজার সিএস ৮৪৩ দাগের মোট জমির পরিমাণ ২০ দশমিক ৩২ একর। এর মধ্যে ১৬ দশমিক ৮৩ একর জমি ১৯৫৩ সালের ১৬১০৮ নম্বর গেজেটে বন আইনের ৪ ধারার নোটিশভুক্ত হয়। অবশিষ্ট ৩ দশমিক ৪৯ একর জমি গেজেটবহির্ভূত ব্যক্তি মালিকানাধীন। তনজব আলী জমিদারের কাছ থেকে পত্তন নিয়ে তার নামে সিএস/এসএ ২৬৮ এবং আরএস ২২৬ খতিয়ানে রেকর্ড থাকাবস্থায় তনজব আলীর কাছ থেকে জাহেদুর রব চৌধুরী জমিটি ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে তার নামে চূড়ান্তভাবে বিআরএস ১২৬৭ নম্বর খতিয়ানে ২ দশমিক ২৪ একর জমির রেকর্ড হয়। এ সংক্রান্ত একটি সেটেলমেন্ট আপিল মামলা হয়েছিল। এতে জাহেদুর রব চৌধুরীর পক্ষে রায় হয়। ওই রায়ে সিএস রেকর্ড থেকে ব্যক্তি মালিকানার ধারাবাহিকতা, মামলায় অংশগ্রহণকারী বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং সার্ভেয়ারের অনাপত্তি উল্লেখ রয়েছে। সর্বশেষ রেকর্ডীয় মালিক জাহেদুর রব চৌধুরীর কাছ থেকে কাকলী চৌধুরী সাব-কবলা দলিলমূলে জমিটি ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে তানভীর আহমেদ ঢাকার জেলা প্রশাসক থাকাকালীন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ২ দশমিক ২৪ একর জমির শ্রেণি পরিবর্তনের আদেশ দেওয়া হয়। এতে সিএস রেকর্ডে জমিটি পুকুর, এসএ-তে টেক এবং আরএস রেকর্ডে চালা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিটি সিএস থেকে হাল রেকর্ড পর্যন্ত ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি হিসেবে বিদ্যমান।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ জানান, এখানে বন বিভাগের কোনো রেকর্ড বা মালিকানা ছিল না। ফলে বন বিভাগের জমি শ্রেণি পরিবর্তন করে ব্যক্তি মালিকানায় প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ অসত্য। সারি সারি গজারি গাছ বা শালবন হিসেবে যেটি দেখানো হয়েছে, সেগুলো মূলত জমির মালিকপক্ষের রোপণ করা আকাশমনি গাছ। এখানে কোনো গজারি গাছ বা শালবন নেই।

তিনি আরও বলেন, “কোনো জমিতে ৪ বা ৬ ধারার নোটিশ জারি করলেই সেটি বন বিভাগের জমি হয়ে যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত ২০ ধারার গেজেট চূড়ান্ত না হয়, ততক্ষণ তা বন বিভাগের চূড়ান্ত মালিকানায় যায় না। ব্যক্তি সম্পত্তির ক্ষেত্রে আইনের ১১ ধারামতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে অধিগ্রহণ করতে হয়। সুতরাং দেওয়ানি আদালতের রায় কিংবা ২০ ধারার গেজেটের মাধ্যমে অধিগ্রহণ চূড়ান্ত করার আগে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির স্বত্ব ও স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে।”

তানভীর আহমেদ জানান, কিছুদিন আগে অসত্য তথ্য দিয়ে তার নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত প্রকৃত তথ্য গোপন করে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও তা প্রকাশের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, “আমি ঢাকার জেলা প্রশাসক থাকাকালে আমার কাছে ওই জমির মালিক কাকলী চৌধুরীর একজন প্রতিনিধি আসেন। তিনি আশুলিয়া ভূমি অফিসের এক কানুনগো ও বন বিভাগের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। 

অভিযোগে বলা হয়, এই কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা অবৈধ অর্থ দাবি করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বাধ্য হয়ে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের কিছু মেসেজ দেখান।”

তিনি জানান, সেখানে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসারের নামে সংরক্ষিত একটি নম্বরের সঙ্গে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ ও অর্থ গ্রহণসংক্রান্ত বার্তা দেখা যায়। বিষয়টি বিস্তারিত শোনার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কানুনগোকে বদলির নির্দেশনা প্রদান করেন।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সাভার   ব্যক্তিমালিকানাধীন   জমি   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close