ভারতে পাচারের শিকার হওয়া ২০ বাংলাদেশি নারী ও শিশুকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকালে ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ফেরত আসাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। তারা বিভিন্ন সময়ে দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। পরে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলে আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখা হয়।
হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন তাদের ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে। পরে ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ছাড়পত্র দিলে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এ সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও মানবপাচার প্রতিরোধ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ‘ট্রাভেল পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মানবাধিকার সংস্থা যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, রাইটস যশোর ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতি তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত ফেরত আসা নারী-শিশুরা সংস্থার হেফাজতেই থাকবে।’
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধ না হলে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা কমবে না। পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/ এমএস