পটুয়াখালীর গলাচিপায় জেলেদের মাঝে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণ করা ইলিশ জাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উলানিয়া এলাকায় দুই ব্যক্তি প্রকৃত জেলে না হয়েও অনৈতিকভাবে জেলে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি জাল গ্রহণের পর তা ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় ১৫০ জন জেলের মাঝে বিনামূল্যে সুতার জাল (ইলিশা জাল) ও বিকল্প খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মো. নুরুল হক নুর।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, একই দিনে উলানিয়া বন্দর বাজারের গরুর হাট সংলগ্ন আবাসন এলাকার বাসিন্দা মো. বেল্লাল ও মো. শাহিন প্রকৃত জেলে না হয়েও গলাচিপা মৎস্য অফিসের যোগসাজশে জেলে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি জাল সংগ্রহ করেন। পরে তারা ওই জাল স্থানীয় আব্দুল মাঝির কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় জেলে মো. মনির, মো. গফুর ও গাছ ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রকৃত অসহায় জেলেরা সরকারি কোনো সহায়তা পায় না। অথচ অবৈধ উপায়ে মাছের আড়ৎদাররা সরকারি চাল, ডাল, তেল ও জাল পায়। এটা কেমন বিচার?
তারা আরও জানান, বিনামূল্যে পাওয়া জাল বিক্রির খবর পেয়ে স্থানীয়রা হাতে-নাতে জালগুলো আটক করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ মৎস্যজীবী সমিতির গলাচিপা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. জাকির হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে যান। পরে উলানিয়া বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় জালগুলো জব্দ করে ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবীকে অবহিত করা হলে তার পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় সুবিধাবঞ্চিত প্রকৃত জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘জেলেদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণকৃত সরকারি জাল অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/ এমএস