কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে এক যুবদল নেতার ভাতিজির বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ভবনে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজন করায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের হলরুমে বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য খাবারের টেবিল ও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিয়েকে ঘিরে হলরুমে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপাশা ইউনিয়নের চণ্ডিপাশা গ্রামের মৃত ইছমাইলের ছেলে ও জেলা যুবদলের সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সরকারি স্থাপনা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনসেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আমার ভাতিজির বিয়ের মূল আয়োজন আমাদের বাড়িতেই ছিল। সকাল ১১টার দিকে ডেকোরেশনের কাজও শেষ হয়েছিল। কিন্তু দুপুর দেড়টা-দুইটার দিকে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আমরা বিপাকে পড়ে যাই। পরে জরুরি পরিস্থিতিতে খাবার ও প্যান্ডেলের ব্যবস্থা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভেতরে স্থানান্তর করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বরযাত্রী বা জামাইয়ের বসার ব্যবস্থা ইউনিয়ন পরিষদে করা হয়নি, সেটি বাড়িতেই ছিল। পরিস্থিতি জরুরি হওয়ায় আগে থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়ার সুযোগ পাইনি। তবে চেয়ারম্যানকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। মানবিক দিক বিবেচনায় পরিষদের দরজা খুলে দেওয়া হয়।’
নুরুল ইসলাম বুলবুল দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিয়ের আয়োজনের কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এছাড়া পরিষদের কোনো টেবিল-চেয়ার বা আসবাবপত্রও ব্যবহার করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্য বলেন, ‘আমাদেরকে জানানো হয়েছে। কোনো এক ব্যক্তির কুলখানির আয়োজন। এখন শুনলাম বিয়ে।’
ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্যকে দাওয়াত দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামছু উদ্দিন বলেন, ‘অনুষ্ঠানটির মূলত পারিবারিকভাবে বাইরেই করা হয়েছিল। যে মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তার বাবা প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। এই পরিবারে পাঁচটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পরিষদেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই তাদের একটি অনুরোধ আমরা ফেলে দিতে পারিনি। অত্যন্ত অসহায় এবং এতিম এই মেয়েটির বয়স হয়ে গেলেও এতকাল বিয়ে হচ্ছিল না। তাদের মেহমান বসানোর মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও ছিল না, কেবল সেই মানবিক কারণেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি আমি ইউএনও স্যারকেও বুঝিয়ে বলব। সামান্য একটি মানবিক বিষয় নিয়ে এত বিতর্কের কিছু নেই, কারণ এখানে কোনো সরকারি সম্পদের ক্ষতি বা অপব্যবহার করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি-বেসরকারি এবং এনজিওর অসংখ্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। কোন হালায় আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে, তাকে আমার সামনে এনে দাঁড় করান। আমি দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে জনগণের সেবা করেছি। কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার মতো কোনো মানসিকতা বা প্রয়োজন আমার নেই।’
পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিতে হবে। তবে সরকারি ভবনে ব্যক্তিগত এমন আয়োজন করার বিধান নেই।’
কেকে/এমএ