মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে যোগদান করা মো. রিয়াজুল ইসলামকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তলব করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আপনি মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নিকট দায়িত্বভার অর্পণ করে আগামী ১৬ মে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় রিপোর্ট করবেন।
একজন এসপির যোগদানের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় প্রত্যাহারের ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আইজিপি স্বাক্ষরিত পত্রে এই তাৎক্ষণিক নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এছড়া পুলিশ সদর দপ্তর বা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই রদবদল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে?
এ বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার ও সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির মুঠোফোনে যোগাোগ করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
মো. রিয়াজুল ইসলাম ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। মৌলভীবাজার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি রাজশাহী মেট্রেপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে সকালে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মো. রিয়াজুল ইসলাম।
যোগদানের এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন কর্মস্থলের দায়িত্ব ছেড়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সশরীরে রিপোর্ট করার বিষয়টি জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তোলপাড় সৃৃষ্টি হয়েছে। নেটিজনদের মাঝে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে জাওয়াদ নির্জর নামের একটি ভ্যারিফাইড ফেসবুক আইডিতে ‘আড়াই কোটির চুক্তিতে এসপি হয়েও ঘুষের অর্থ দিচ্ছেনা এসপি রিয়াজুল’ শিরোনামে পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা হয় ‘গত ৫ মে তারিখে ১২ জেলার পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলি করা হয়। এই বদলিতে নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। অন্তত ১ জন এসপির বদলিতে কয়েক কোটি টাকার তথ্য প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। আড়াই কোটি টাকার চুক্তি করে মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে বদলি হন রিয়াজুল ইসলাম! তবে এসপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর টাকা না দিয়ে কাজ করে দেয়া পক্ষকে ঘোরাচ্ছে। একপর্যায়ে এসপি রিয়াজুল ইসলাম তার এক আত্মীয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়োগ পাওয়ার দুই দিন পর ৭ তারিখে ২০ লাখ টাকা দেয়। আড়াই কোটির বাকি ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা করছে। বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার এবং পদধারী নেতা ছাড়াও রিয়াজুলের আরো একটি পরিচয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আজীবন সদস্য! রিয়াজুলকে কারা নিয়োগ দিলো। আর নিয়োগের পর তাদেরকে কিভাবে পল্টি দিয়ে দিলো রিয়াজুল। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন, এই পেজ এবং করাপশন ইন মিডিয়ার ভিডিও স্টোরিতে!’
শুক্রবার (১৫ মে) জাওয়াদ নির্জর নামের ভ্যারিফাইড ফেসবুক আইডির আরেক পোস্টে বলা হয়, ‘মৌলভীবাজারের নতুন এসপি রিয়াজুল ইসলামকে জেলার দায়িত্ব ছেড়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই এসপিকে নিয়ে গতকাল পোস্ট দিয়েছিলাম। এসপি রিয়াজুলের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ!’
এ বিষয়ে কথা বলতে মো. রিয়াজুল ইসলামকে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
কেকে/এমএ