মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
শক্তি বাড়াচ্ছে জামায়াত
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন কৌশল ও বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পুনর্গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণা ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিতে কাজ করছে দলটি। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই দলটি ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে আঞ্চলিক পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, অতীতের রাজনৈতিক সংকট ও সাংগঠনিক চাপ কাটিয়ে তারা এখন জনসম্পৃক্ততার রাজনীতিতে জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় কর্মী সম্মেলন, দাওয়াতি সভা, তরুণদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের টার্গেট করে আলাদা সাংগঠনিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রযুক্তি ও সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে দলটি। ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত প্রচারণা বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন লাইভ, শর্ট ভিডিও, ডিজিটাল পোস্টার ও ইস্যুভিত্তিক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ‘পলিসি সামিট-২০২৬’-এ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ‘ভিশন ২০৪০’ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে দলটি। সেখানে আইসিটি খাতকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, নীতিনির্ভর রাজনীতির বার্তাও সামনে আনতে চাইছে জামায়াত। ভোটের আগে দলটি ‘পলিসি সামিট-২০২৬’-এ অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের নানা পরিকল্পনা ঘোষণা করে। পরে নির্বাচনি ইশতেহারেও যুব নেতৃত্ব, নারীর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করা হয়।

দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পর্যবেক্ষক মনে করছেন, অতীতে আওয়ামী লীগের প্রভাবে দুর্বল হওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারেও চেষ্টা করছে দলটি। এ ছাড়া ব্যবসায়ী ও প্রবাসী সমর্থকদের সক্রিয় করার পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ঘিরেও নতুন করে সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, পেশাজীবী সংগঠন ও স্থানীয় সামাজিক বলয়ে দল-সমর্থিতদের তৎপরতা বেড়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল নিয়েও দলটির অভ্যন্তরে কাজ চলছে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দলটি আবারও সক্রিয় অবস্থান তৈরি করছে।

এদিকে সংসদ নির্বাচন জোটগতভাবে করলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিজেদের শক্তিতেই করতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। সেই পরিকল্পনা নিয়ে ১২টি সিটি করপোরেশনে ১২ জন মেয়র পদপ্রার্থী ঠিকও করে ফেলেছে দলটি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে দলটির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল ১১-দলীয় ঐক্য গড়ে। এই মোর্চায় আরও কয়েকটি ইসলামি দলের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে, এককভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একসময় শুধু রুকনদের (শপথধারী কর্মী) দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক, এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।

এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ নেতৃত্বকে। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সামনে আনতে চায় জামায়াত। এই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব যোগ্যতায় কিছু এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থী দেবে—এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তই বহাল আছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রথম ধাপে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ। এরপর নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হলে দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং তৃতীয় ধাপে গণসংযোগ শুরু হবে।

৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। কিছু এলাকায় বাস্তবতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জামায়াত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close