মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
কঠিন পরীক্ষায় এনসিপি
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:৫৬ এএম আপডেট: ১৬.০৫.২০২৬ ১২:১৬ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে জাতীয় নির্বাচনে কয়েকটি দল জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও স্থানীয় নির্বাচনে তারা এগোচ্ছে ‘একলা চলো’ নীতিতে। ফলে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দূরত্ব বাড়ছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে। দুই দলই নিচ্ছে একক নির্বাচনের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে দল দুটি আলাদা আলাদা প্রার্থীও ঘোষণা করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনীতিতে এনসিপির কিছুটা জনসমর্থন থাকলেও তা স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য যথেষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলটির পরিচিত কিছু মুখ তৈরি হলেও তৃণমূলকে এখনো সুসংগঠিত করতে পারেনি দলটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ভর দিয়ে বৈতরণী পার হয়েছে এনসিপি। দলটি (জামায়াত) সহযোগিতা না করলে এনসিপির পক্ষে প্রত্যাশিত আসন ও জনসমর্থন তৈরি করা সম্ভব হতো না। যদিও এনসিপিকে সঙ্গে রাখায় জামায়াতও অনেক সুবিধা পেয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

তবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৃণমূলে তাদের জনসমর্থন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধী দলের ভূমিকায় জামায়াত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না দাবি করে দলটির একাধিক কর্মী জানান, ভোটের আগে জামায়াতকে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের যে আগ্রহ ছিল, তা এখন অনেকটা কমে গেছে। বিশেষ করে সংসদে দলটি সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। যা এনসিপির ৬ জন সংসদ সদস্য তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। যার প্রভাব পড়েছে মাঠপর্যায়ে।

ইসির তথ্য মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে এনসিপি। ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬টি আসনে জয় পায় দলটি। এ ছাড়া ১৭টি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা দ্বিতীয় হন।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়া এনসিপির এমপি প্রার্থীরাও মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হবেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করেছেন।

এ ছাড়া এনসিপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

এ প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য এনসিপি পর্যাপ্ত সময় পায়নি। দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও তখন সব জায়গায় প্রত্যাশিত মাত্রায় শক্তিশালী ছিল না। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছি।’

তবে জোটগতভাবে নির্বাচনের সম্ভাবনাও যে রয়েছে, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখে আদীব বলেন, ‘জোটগতভাবে নির্বাচন হবে নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচনের আগে। কিন্তু আমরা জোটের আশায় বা জোট হবে কি না, এই দ্বিধা নিয়ে বসে থাকতে পারি না। আমরা এককভাবে আমাদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছি।’

তৃণমূলে দলটির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে কথা হয় ঢাকা মহানগর উত্তরের তুরাগ থানা এনসিপি কর্মী নুর মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ‘তৃণমূলকে গোছাতে আমরা মাঠে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি জনসমর্থন পাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি সংগঠনকে ডোর টু ডোর পৌঁছে দিতে।’

স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি আলাদা নির্বাচন করলে এতে তৃণমূলের ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে, তবে দলকে সংগঠিত করতে এ সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী। এতে তৃণমূলে দল আরও শক্তিশালী হবে।’

১০০ উপজেলা-পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা : দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। এর মধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র ও ৬৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলটি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আসন্ন ঈদুল আজহার আগে ২০ মে আরও ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। গত রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, কমিটির সদস্য তাহসীন রিয়াজ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মনজিলা ঝুমা এবং এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, মো. আতাউল্লাহ ও এসএম সুজা সাংগঠনিক বিভাগওয়ারি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় সারজিস আলম জানান, ঈদের আগে ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে যারা আগ্রহী, এনসিপি ও দেশের মানুষের জন্য যারা কাজ করতে আগ্রহী, তাদের এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যারা কখনো মানুষের ওপর নিপীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, যাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না, তারা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তারা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও যদি কেউ আসতে চান, সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদেরও সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  এনসিপি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close