মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নেত্রকোনায় সরকারি চাল জব্দ
অভিযুক্তরাই মামলার বাদী ও সাক্ষী
শাহ মোহাম্মদ রনি
প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম আপডেট: ১৭.০৫.২০২৬ ১:৩১ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

নেত্রকোনায় ২০ টন সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় চলছে নাটকীয়তা। অভিযুক্তরাই হয়েছেন আলোচিত এ মামলার বাদী ও সাক্ষী। এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে চাল পাচারের আগাগোড়া তথ্য রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত করলেই পাচারের সঙ্গে জড়িত সবাই শনাক্ত হবেন। আসামির তালিকায় যুক্ত হবেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া, গুদাম ইনচার্জ (ওসিএলএসডি) মাহমুদুল আলম ও গুদামের অন্য স্টাফরা। অন্যদিকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাৎ পিছু ছাড়ছে না ময়মনসিংহের নেত্রকোনা খাদ্য বিভাগের। উর্ধ্বতনরা দুর্নীতিবাজদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বেড়েই চলছে আর্থিক অপরাধের যত ঘটনা। পরিস্থিতি যেন ‘মগের মুল্লুক’।

গত শনিবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মদনে চাল পাচারের ঘটনা ধামাচাপা ও ভিন্ন খাতে নেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। এ নিয়ে কয়েকদফা বৈঠক হয় খাদ্য গুদাম ও থানায়। খাদ্য অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও আশকারার কারণে নেত্রকোনা খাদ্য বিভাগে আর্থিক অপরাধের মাত্রা বেড়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এই জেলার কয়েকজন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম ইনচার্জের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। দুর্নীতিবাজরা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে অদৃশ্য খুঁটির জোরে পার পেয়ে যান। নানা অপরাধে পার পেয়ে যাওয়া দুর্নীতিবাজরা আগের তুলনায় আর্থিক অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভেঙে ফেলেছেন অতীতের সকল রেকর্ড।

সূত্র জানায়, মদনে সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছেমুর রহমান গত শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। পূর্বধলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আহসান হাবীবকে আহ্বায়ক, নেত্রকোনা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মুনতাসির মামুনকে সদস্য সচিব ও একই দপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক মো. কামরুল হাসানকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে নেত্রকোনার মদনে ২০ টন সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মদন খাদ্য গুদাম থেকে ৬৬৭ বস্তা সরকারি চাল নিয়ে ত্রিপালে ঢাকা ট্রাকটি বের হয়। ৩০ কেজি ওজনের বস্তায় ২০ টন বোরো চাল ছিল। খাদ্য অধিদপ্তরের স্টেনসিল যুক্ত বস্তায় চালগুলো বারহাট্টা উপজেলার বাউসী খাদ্য গুদাম এলাকার তালুকদার অটো রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল। অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোনে এ খবর পায় জেলা প্রশাসন। রাত ১০টায় নেত্রকোনা-মদন সড়কের মৈধাম এলাকায় সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে পুলিশ চালসহ ট্রাকটি জব্দ করে। আটক করা হয় ট্রাক চালক নেত্রকোনা সদরের সাতপাই ছোট গড়ার নাজিম উদ্দিনের ছেলে শামীম মিয়া (৩২) ও চালকের সহকারী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মোদারপুরের সফির উদ্দিন আকন্দের ছেলে শাহীন মিয়াকে (৩৫)।

সূত্র জানায়, মদনে পাচারের সময় চাল উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি চাল নিয়ে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন। সঠিক তদারকির অভাবে এই গুদাম থেকে প্রায়ই চাল পাচারের ঘটনা ঘটে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া গত বছরের ৫ নভেম্বর ও ওসিএলএসডি মাহমুদুল আলম একই বছরের ২৭ মে দায়িত্ব নেন। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া ও গুদাম ইনচার্জ মাহমুদুল আলম সাংবাদিকদের কাছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে দায়িত্ব-কর্তব্যে চরম অবহেলা ফুটে ওঠে। প্রকাশ পায় অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আটক ট্রাক চালক ও তার সহকারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। চালগুলো মদন খাদ্য গুদাম থেকে বারহাট্টার বাউসী এলাকার তালুকদার অটো রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল। চোরাই খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী এনামুল হক আনারসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারি চাল পাচারের খবর পেয়ে মদনের এসিল্যান্ডকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় চালসহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

জানা যায়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়ার যোগসাজশে ওসিএলএসডি মাহমুদুল আলম খাদ্যবান্ধব, কাবিখা, টিসিবি ও ভিডব্লিউবি’র ডিও’র চাল ডেলিভারি দেখিয়ে গুদামেই রেখে দেন। চিহ্নিত চোরাই খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী এনামুল হক আনারের হয়ে ওসিএলএসডি কম দামে চালগুলো কিনে গুদামে রেখেছিলেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। পাচার হওয়া চালগুলো বারহাট্টার বাউসী খাদ্য গুদাম থেকে চলতি বোরো ক্রয় দেখানোর কথা ছিল। 

সূত্র মতে, একই প্রক্রিয়ায় খাদ্যবান্ধব, কাবিখা, টিসিবি ও ভিডব্লিউবি’র ডিও’র চাল কিনে বারহাট্টা, কলমাকান্দা, সুসং দুর্গাপুর ও পূর্বধলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামে বোরো ও আমন সংগ্রহ দেখানো হয়। এভাবেই আর্থিক দুর্নীতিতে জড়ান নেত্রকোনার অধিকাংশ গুদাম ইনচার্জ (ওসিএলএসডি)। তাদের সহযোগিতা করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নেত্রকোনা   সরকারি   চাল জব্দ   মামলা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close