সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ২৭ জন      একদিনের সফরে বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী      রাজধানীতে জলাবদ্ধতা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ব্যারাজের ইতিকথা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভোরবেলা নদীর তীরে দাঁড়ালে বাতাসের সঙ্গে যে আর্দ্র গন্ধ ধেয়ে আসে, তা মানবসভ্যতার আদিমতম স্পন্দনের কথা মনে করিয়ে দেয়। নদী চিরকালই মানুষের জীবনের পরম সখা, আবার কখনো তীব্র প্লাবনে সব ভাসিয়ে নেওয়া এক রুদ্র রূপ। এ রুদ্রতাকে শান্ত করতে এবং শুষ্ক মৌসুমে তৃষ্ণার্ত মাটির মুখে জল তুলে দিতে মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা কৌশল আবিষ্কার করেছে। 

নদীর এই বাঁধনহারা গতিকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ না করে, বৈজ্ঞানিক উপায়ে তার পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করার যে শিল্প, তা-ই হলো ব্যারাজ বা প্যালকাড। এটি শুধু কংক্রিট আর ইস্পাতের কাঠামো নয়, বরং নদীর বুকে মানুষের এক অনন্য প্রকৌশলগত মিতালী। 

অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে, নদীর চঞ্চল স্রোতধারাকে মানুষ যখন নিজের প্রয়োজনে বশ করতে চাইল, তখনই জন্ম নিল ব্যারাজ বা জলকপাটের এক চিরন্তন উপাখ্যান। আদিকাল থেকে নদীমাতৃক সভ্যতার মানুষ বুঝতে পেরেছিল যে, জলের অতিরিক্ত প্রাচুর্য যেমন প্লাবন আনে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে জলের অভাব ডেকে আনে হাহাকার।

আজকের আধুনিক বিশ্বজুড়ে যে বিশালাকার জলকপাট বা ব্যারাজ আমরা দেখতে পাই, তার ইতিহাস ও বিবর্তনের পথটি প্রাচীন যুগের মেসোপটেমিয়া ও প্রাচীন মিশরের নীলনদের তীরে বিস্তৃত। তবে জলনিয়ন্ত্রণের এ আধুনিক ধারণার প্রাতিষ্ঠানিক বিবর্তন শুরু হয় উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রকৌশলীদের হাত ধরে।

ভারতের সিন্ধু নদ এবং গঙ্গা নদীর অববাহিকায় প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যারাজ নির্মাণ শুরু হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্যা প্রতিরোধ এবং দীর্ঘ খালের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ পৌঁছানো।

বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে এসে ব্যারাজ শুধু সেচ বা বন্যা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার এক অপরিহার্য মহাপ্রকল্পে পরিণত হয়েছে। নদী ও সমুদ্রের মেলবন্ধনে তৈরি এ বিশ্বজোড়া জলপ্রকৌশলের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো যুক্তরাজ্যের টেমস ব্যারাজ। লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রকে উত্তর সাগরের প্রলয়ঙ্কারী জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে ১৯৮২ সালে এই বিখ্যাত ব্যারাজটি চালু করা হয়। 

দূর প্রাচ্যের দেশ ভিয়েতনামে নির্মিত থু বোন ব্যারাজ এশিয়ার কৃষি অর্থনীতিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। দেশটির মধ্যভাগের নদী অববাহিকায় সাগরের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং ধান চাষের জমিতে স্বাদু পানির জোগান নিশ্চিত করতে এ আধুনিক জলকাঠামোটি গড়ে তোলা হয়। 

ইউরোপের বুকে নেদারল্যান্ডসের ডেল্টা ওয়ার্কসের অংশ হিসেবে নির্মিত মায়েসল্যান্টকেরিং ব্যারাজ মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত প্রতীক। ডাচ প্রকৌশলীরা রটারড্যাম বন্দরের মতো ব্যস্ততম জলপথকে সচল রেখেই সাগরের ঝড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাস রুখে দেওয়ার জন্য দুটি বিশালাকার আইফেল টাওয়ারের সমান আকৃতির ভাসমান গেট তৈরি করেছেন। 

প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার পুণ্যভূমি পাকিস্তানে অবস্থিত সুক্কুর ব্যারাজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সেচ নেটওয়ার্ক। ১৯৩২ সালে লয়েড ব্যারাজ নামে উদ্বোধিত হওয়া সিন্ধু নদের ওপর নির্মিত এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে মোট ৬৬টি দৃষ্টিনন্দন গেট রয়েছে। 

মিশরের নীল নদের ওপর ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত ডেল্টা ব্যারাজ আধুনিক ব্যারাজ প্রকৌশলের ইতিহাসের এক আদি মাইলফলক। কায়রোর উত্তরে নীল নদ যেখানে দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়েছে, ঠিক সেখানে ফরাসি প্রকৌশলীদের সহায়তায় এ দৃষ্টিনন্দন খিলান আকৃতির জলকপাটটি নির্মাণ করা হয়। 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভাগীরথী-হুগলী নদীর নাব্য রক্ষা এবং কলকাতা বন্দরকে পলি জমে অচল হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ১৯৭৫ সালে গঙ্গা নদীর ওপর বিখ্যাত ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করা হয়। প্রায় ২.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বিশাল জলকাঠামোটি ১০৯টি স্প্যান নিয়ে গঠিত।

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীর ওপর নির্মিত ইম্পেরিয়াল ব্যারাজ ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল ভ্যালির মরুভূমিকে আমেরিকার অন্যতম প্রধান সবজি ভান্ডারে পরিণত করেছে। ১৯৩৮ সালে নির্মিত এ ব্যারাজটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল পলি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা ডেসিল্টিং বেসিন। 

ইউরোপের অন্যতম দীর্ঘ নদী ডানিয়ুবের ওপর রোমানিয়া ও সার্বিয়া সীমান্তে যৌথভাবে নির্মিত আয়রন গেটস ১ ব্যারাজ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একটি অনন্য স্থাপনা। দুই দেশের প্রাকৃতিক সীমানা নির্ধারণকারী এক সংকীর্ণ গিরিখাতে ১৯৭২ সালে এ বিশাল বহুমুখী ব্যারাজটি স্থাপন করা হয়। 

উত্তর আমেরিকার সেন্ট লরেন্স সিওয়ে প্রজেক্টের অংশ হিসেবে কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থিত ইরোশিয়ান ব্যারাজ আন্তর্জাতিক জলসীমা ব্যবস্থাপনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

মধ্যপ্রাচ্যের ইরাকে দজলা বা টাইগ্রিস নদীর ওপর ১৯৩৯ সালে নির্মিত কুত ব্যারাজ মেসোপটেমীয় অঞ্চলের কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার উইলিয়াম উইলককসের নকশায় শুরু হওয়া এ ব্যারাজটি মূলত ঘাফ নদী অঞ্চলের খরাপ্রবণ কৃষি জমিতে পানি সরবরাহের জন্য তৈরি হয়েছিল। 

দক্ষিণ আমেরিকার প্যারাগুয়ে ও পারানা নদীর সংযোগস্থলে নির্মিত ইয়াসিরেতা ব্যারাজ আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে সরকারের এক বিশাল যৌথ অর্জন। বিশাল এ জলকপাটের মূল কাজ হলো নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর দুই তীরের বিশাল বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যগুলোকে পানির অভাব থেকে রক্ষা করা। 

চীনের ইয়াংজি নদীর অববাহিকায় নির্মিত গেঝুবা ব্যারাজ দেশটির বিশ্ববিখ্যাত 'থ্রি জর্জেস ড্যাম’ এর অগ্রদূত এবং একটি অন্যতম প্রধান নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প। ১৯৮৮ সালে সম্পূর্ণ হওয়া এ ব্যারাজটি ইয়াংজি নদীর প্রবল স্রোত ও ভয়ংকর বন্যাকে সামাল দিতে প্রথম সফল প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। 

পৃথিবীর মানচিত্রে নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে চলা পদ্মা নদী যেমন এদেশের মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে এর রূপান্তর ঘটেছে এক করুণ ট্র্যাজেডিতে। উজানে ফারাক্কা ব্যারাজের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে মরুময়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। 

এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে এবং দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডের পানির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সরকার পদ্মা ব্যারাজ (১ম পর্যায়) প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে শুধু ফাইলের পাতায় বন্দি থাকা এ স্বপ্নটি অবশেষে বাস্তবের আলো দেখতে শুরু করেছে।

এ মহাপরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা এবং পাবনা জেলার মাঝখানের পদ্মা নদী। এ পাংশা পয়েন্টেই নির্মিত হতে যাচ্ছে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল ও আধুনিক মূল ব্যারাজ কাঠামো। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ ব্যারাজের বুকে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে বা জলকপাট এবং ১৮টি আন্ডারস ইস, যা শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার বিশাল অববাহিকায় প্রায় ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ধরে রাখতে পারবে। এ সংরক্ষিত পানি তখন মৃতপ্রায় শাখা নদীগুলোর বুক চিরে বয়ে যাবে।

যে কোনো দেশের জন্য এমন এক বিশাল মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় এর বিশাল বাজেট ও অর্থায়ন। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জন্য প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করেছে ৩৩,৪৭৪ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক বাস্তবায়নে প্রায় ৫০,৪৪৩ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছাবে। 

জাতীয় জীবনে এ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী এবং বৈপ্লবিক। শুষ্ক মৌসুমে ব্যারাজে জমা হওয়া পানি হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাসিয়া, বড়াল এবং ইছামতির মতো পাঁচটি প্রধান নদী সিস্টেমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ কিউসেক হারে প্রবাহিত করা হবে। এর ফলে দেশের ১৯টি জেলার প্রায় ১২০টি উপজেলার এক বিশাল জনপদ সরাসরি উপকৃত হবে। 

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ফুড বাস্কেট বা খাদ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি এ প্রকল্পের মাধ্যমে এক নতুন জীবন পাবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে যেখানে বিঘার পর বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, সেখানে এখন প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে আধুনিক সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। 

নদীর পানির এই প্রবাহ শুধু জমিতে ফসলই ফলাবে না, বরং এটি আমাদের মৎস্যসম্পদেও আনবে জোয়ার। নদীগুলোর নাব্য ফিরে আসার কারণে এবং ব্যারাজের ভেতরে সুপরিকল্পিত মাছের চলাচলের পথ বা ‘ফিশ পাস’ থাকার কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ প্রকল্পের ফলে অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও নদীগুলো থেকে বার্ষিক মাছের উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার টন বৃদ্ধি পাবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে দেবে। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আরেকটি বড় অভিশাপ হলো সাগরের লোনা পানির অনুপ্রবেশ, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল। পদ্মা ব্যারাজ থেকে যখন নিয়মিত স্বাদু পানির প্রবাহ গড়াই নদী হয়ে সুন্দরবনের দিকে ধাবিত হবে, তখন সাগরের নোনা জলের আগ্রাসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। এটি শুধু সুন্দরবনের সুন্দরী গাছের টিকে থাকাকেই নিশ্চিত করবে না, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির তীব্র সংকট থেকেও কোটি মানুষকে রক্ষা করবে। 

আধুনিক যুগের এ বহুমুখী ব্যারাজটি শুধু পানি ধরে রাখার আধার নয়, এটি দেশের জ্বালানি খাতেও অবদান রাখবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যারাজের সঙ্গে একটি ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদিত এ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ স্থানীয় শিল্পকারখানা ও গ্রামীণ জনপদে আলোর রোশনাই ছড়িয়ে দেবে এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসে দেশের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পূরণে সাহায্য করবে।
 
পরিশেষে বলতে চাই, নদীর গান গাইতে গাইতে যে সভ্যতার জন্ম, সেই সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দায়ও মানুষের নিজেরই। ব্যারাজের ইতিকথা আমাদের শেখায় যে, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে নয়, বরং তাকে পরম মমতায় আলিঙ্গন করেই মানবজাতিকে টিকে থাকতে হয়। 

প্রাচীন মিশরের মাটির বাঁধ থেকে শুরু করে আজকের অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যারাজ সবই মানুষের অদম্য টিকে থাকার গল্পের একেকটি গৌরবময় অধ্যায়। 

বাংলাদেশের বুকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি হতে পারে এ বদ্বীপের কোটি কোটি মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার আশা। এ প্রকল্পের প্রতিটি ইট-পাথর ও জলকপাট যখন সচল হবে, তখন হয়তোবা আমাদের মরে যাওয়া নদীগুলো আবার নতুন সুরে গান গেয়ে উঠবে, সুজলা-সুফলা হয়ে উঠবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

 লেখক : প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close