মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
স্থানীয় সরকার নির্বাচন
কদর নেই ছোট দলের
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:২৫ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দলগুলো। ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থীও ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এ প্রস্তুতিতে আলোচনার বাইরে জাতীয় নির্বাচনের জোটসঙ্গী ছোট ও শরিক দলগুলো।

বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছোট ও শরিক দলগুলোর যে গুরুত্ব ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে সেই ‘কদর’ অনেকটা কমে গেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও ‘সমঝোতা’ করা হবে, ভোটের আগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এ ধরনের আলোচনা বেশি শোনা গেলেও এটি গুরুত্ব পাচ্ছে না স্থানীয় নির্বাচনে।

একই চিত্র বিএনপিতেও। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মিত্র ও জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে থাকা শরিকদের গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। যার ফলে শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের চাপা অসন্তোষ। তারা বলছেন— জাতীয় নির্বাচন, সিঁড়ি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের প্রয়োজন ছিল। তখন তাদের গুরুত্ব ছিল আলোচনার টেবিলেও। এখন সময় বদলেছে, তাই বড় দলগুলো এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছে না।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে থাকা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা এখনো পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করব বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বামদলগুলোর সঙ্গেও এক ধরনের যোগাযোগ আছে। সেটা হয়তো আলোচনার পর বলা যাবে।’

স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনে থাকা কোনো দলের সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ রাখা হচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পর ছোট দলগুলোর গুরুত্ব কমেছে। কারণ, ভোটের আগে বড় দল হিসেবে পরিচিত দলগুলোর রাজনৈতিক জার্নির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন দরকার ছিল। যার ফলে সবাইকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছে। এটা হতে পারে তাদের রাজনৈতিক কৌশলী অবস্থান। এখন নির্বাচন শেষ। কেউ হয়েছে সরকারের অংশ, কেউ আছে বিরোধী দলে। ফলে আপাতত তারা মনে করছে যে, তাদের ছোট দলগুলোর আর দরকার নেই। যখনই আবার সংকট তৈরি হবে, তখন হয়তো আবার মিত্রদের খোঁজ নেবে।’

অপরদিকে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে থাকা খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা কোনো জোটে যাচ্ছি না। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জোটে থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত জোটসঙ্গীদের কম গুরুত্ব দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গুরুত্ব কম দেওয়াটাই স্বাভাবিক। নির্বাচন চলে গেছে, জামায়াতও বিরোধী দল হয়ে গেছে। তাদের লোকজনেরও চাহিদা বেড়েছে, সুতরাং এটাকে অস্বাভাবিক কিছু মনে করছি না।’

এদিকে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা আদর্শিক জায়গা থেকে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় গিয়েছিলাম। এখন জাতীয় নির্বাচন শেষ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা (বিএনপি) আমাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কি না, সেটা তাদের বিষয়। আমাদের নয়।’

ভোটের পর বিএনপির কাছে জমিয়তের গুরুত্ব কমে গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা ঠিক এমন নয়। তবে জাতীয় নির্বাচনে তারা আমাদের মাত্র চারটি আসন ছেড়েছে, যা আমাদের সাংগঠনিক অবস্থানের তুলনায় অনেক কম। দেশের পুরোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের আলাদা অবস্থান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাই এবার আমরাও এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছি।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ খোলা কাগজকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি। এ কমিটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে প্রার্থিতা নিশ্চিত করার কাজ করছে।’

জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন পর্যন্তই আমাদের ঐক্য ছিল। কিন্তু জুলাই সনদসহ কয়েকটি ইস্যুতে সেই ঐক্য দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা জোটগতভাবে করব, নাকি এককভাবে— এ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।’

আলাদাভাবে নির্বাচন করলে এতে ভোটের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আলাদাভাবে নির্বাচন করলে কিছুটা বিরূপ প্রভাব তো পড়বেই। তবে কোনো দল যদি মনে করে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে এককভাবে নির্বাচন করা প্রয়োজন, তাহলে সেটিও ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  স্থানীয়   সরকার   নির্বাচন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close