মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নেত্রকোণায় সরকারি চাল উদ্ধার
আরও ৪৩ টন চাল জব্দ মদন গুদাম সিলগালা
ফলোআপ
শাহ মোহাম্মদ রনি
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:৩০ এএম আপডেট: ১৮.০৫.২০২৬ ১১:১৯ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়লেন দুর্নীতিবাজ সেই দুই খাদ্য কর্মকর্তা। দুইদিন আগের ঘটনা ধামাচাপার প্রাণান্ত চেষ্টা ও নাটকীয়তা করেও তারা শেষ রক্ষা পেলেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় পরিমাপের পর শনিবার রাতে খাদ্য গুদামটি সিলগালা করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয়েছে অবৈধভাবে গুদামে রাখা অতিরিক্ত ৪৩ টন ৫৬০ কেজি বোরো চাল। রেকর্ড অনুযায়ী ৩০ কেজির ১ হাজার ৪৫২ বস্তায় চালগুলো ২ নম্বর গুদামের ১৯১১৬৫৩৩১ ডেলিভারি খামালে রাখা ছিল।

সূত্র জানায়, চোরাই খাদ্যশস্য ব্যবসায়ীর কাছে পাচার অথবা চলতি বোরো সংগ্রহ মৌসুমে চালগুলো অ্যাডজাস্ট (ক্রয় দেখানোর) করার পরিকল্পনা ছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে পাচারের সময় পুলিশ ট্রাকসহ ২০ টন বোরো চাল উদ্ধার করে। দুইদিনের মাথায় গুদাম থেকে জব্দ করা হলো অবৈধ আরও ৪৩ টন ৫৬০ কেজি চাল। এ ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে রোববার দৈনিক খোলা কাগজের শেষ পৃষ্ঠায় ‘অভিযুক্তরাই মামলার বাদী’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে পাচারের সময় মদনে ২০ টন সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে খাদ্য অধিদপ্তর। কড়া নজর দেন অধিদপ্তরের নয়া মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান। শনিবার ঘটনাস্থল মদনে পাঠান অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজমকে। তিনি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের গঠন করা তদন্ত টিমসহ অন্যদের নিয়ে শনিবার বিকালে গুদামে যান। কাগজপত্র পরীক্ষা ও চাল পরিমাপ করে ২ নম্বর গুদামের ডেলিভারি পয়েন্টে অবৈধভাবে রাখা ৪৩ টন ৫৬০ কেজি চাল পান। মহাপরিচালককে তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানিয়ে রাতে জব্দ তালিকা তৈরি ও গুদাম সিলগালা করেন।

সূত্র জানায়, জব্দ তালিকায় খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম, স্থানীয় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক পূর্বধলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আহসান হাবীব ও সদস্য সচিব নেত্রকোণা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মুনতাসির মামুনসহ দুই অভিযুক্ত গুদাম ইনচার্জ মো. মাহমুদুল আলম এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে চলমান ডেলিভারি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে টিসিবি’র ডিও’র ১৫ টন ৫০০ কেজি এবং ওএমএসের ৫০০ কেজি চাল বিশেষ ব্যবস্থায় গুদামের বাইরে রাখা হয়। গতকাল রোববার চালগুলো ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০ টন সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় দুইদিন নাটকীয়তা চলে। অভিযুক্তরাই হন আলোচিত এ মামলার বাদী ও সাক্ষী। এরই মধ্যে অবৈধভাবে গুদামে রাখা আরও ৪৩ টন ৫৬০ কেজি চাল জব্দের ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি নড়েচড়ে বসেছে নেত্রকোণায় কর্মরত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। সূত্র মতে, অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাৎ তাদের পিছু ছাড়ছে না। ঊর্ধ্বতনরা দুর্নীতিবাজদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে আর্থিক অপরাধের ঘটনা। পরিস্থিতি যেন অনেকটাই ‘মগের মুল্লুক’।

বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোণা-মদন সড়কের মৈধাম এলাকার সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে পুলিশ ২০ টন চালসহ ট্রাক আটক করে। গ্রেপ্তার করা হয় ট্রাকচালক ও তার সহকারীকে। মদনে পাচারের সময় চাল উদ্ধার ও গুদামে চাল জব্দের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন। সঠিক তদারকির অভাবে গুদাম থেকে প্রায়ই চাল পাচারের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাদের আশকারায় নেত্রকোণা খাদ্য বিভাগে আর্থিক অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। কয়েকজন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম ইনচার্জের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতিবাজরা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে অদৃশ্য খুঁটির জোড়ে পার পেয়ে যান। সূত্র মতে, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, সুসং দুর্গাপুর ও পূর্বধলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় খাদ্যবান্ধব, কাবিখা, টিসিবি ও ভিডব্লিউবি’র ডিও’র চাল কিনে বোরো ও আমন সংগ্রহ দেখানো হয়। এভাবেই আর্থিক দুর্নীতিতে জড়ান গুদাম ইনচার্জরা। তাদের সহযোগিতা করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা।

নেত্রকোণার মদনে দুই দফায় ৬৩ টনের বেশি সরকারি চাল উদ্ধার ও জব্দের বিষয়ে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম রোববার রাতে দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবেন না। বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  জব্দমদন   গুদাম সিলগালা   চাল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close