মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
দেশজুড়ে
কিশোরগঞ্জে কুরবানির হাট কাঁপাবে ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১:২৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কুরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে কিশোরগঞ্জের গরুর খামার ও পশুর হাট। এরই মধ্যে জেলার নিকলী উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় গরু—‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’। আকার-আকৃতি, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের কারণে গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের উজানহাটি গ্রামের খামারী সাইদুর রহমান ও তার বোন হোসনা বেগম দীর্ঘ তিন বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে গরু দুটি লালন-পালন করেছেন। বর্তমানে গরু দুটি শুধু স্থানীয় এলাকাতেই নয়, আশপাশের উপজেলাগুলোতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই গরু দুটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উজানহাটি গ্রামের সাইদুর রহমানের বাড়ির সামনের খোলা জায়গাজুড়ে যেন ছোটখাটো এক দর্শনার্থী মেলা বসেছে। বাড়ির আঙিনার পাশে টিনের ছাউনি ও বড় গাছের ছায়ার নিচে রাখা হয়েছে বিশাল আকৃতির গরু দুটি—‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’। দূর থেকেই গরু দুটির বিশাল দেহ নজর কাড়ে সবার। কাছে যেতেই স্পষ্ট হয় তাদের অস্বাভাবিক উচ্চতা ও স্বাস্থ্যবান গঠন। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ছাড়াও দূরের এলাকা থেকে মানুষ কৌতূহল নিয়ে গরু দুটি দেখতে আসছেন। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে এসে ভিড় করছেন।

জানা যায়, ‘মোস্তাক’-এর আনুমানিক ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি এবং ‘কামিনী’র ওজন প্রায় ১২০০ কেজি। দুটি গরুর সম্মিলিত ওজন প্রায় ৬২ মণের কাছাকাছি বলে ধারণা করছেন খামারী ও স্থানীয়রা। বিশাল দেহ, প্রশস্ত গঠন ও চমৎকার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে গরু দুটি।

প্রায় ১৭ বছর আগে স্বামী হারানোর পর ভাইয়ের বাড়িতে থেকেই সংগ্রাম করে জীবনযাপন করছেন হোসনা বেগম। সেই সংগ্রামের অংশ হিসেবেই ভাই সাইদুর রহমানের সঙ্গে গরু পালন শুরু করেন তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে সন্তানের মতো যত্নে লালন-পালন করার পর এবার কোরবানির হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

বিশেষ করে ‘মোস্তাক’-এর উচ্চতা ও শরীরের গঠন দেখে অনেকেই প্রথম দেখায় বিস্মিত হয়ে পড়ছেন। কেউ বলছেন, “এত বড় গরু জীবনে প্রথম দেখলাম”, আবার কেউ মোবাইলে লাইভ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতজনদের দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। তারা গরু দুটির কাছে গিয়ে আদর করার চেষ্টা করছে, কেউ আবার গরুর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত। অনেক তরুণ-তরুণীকে দেখা গেছে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে আপলোড করতে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। বিকেলের দিকে মানুষের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। অনেকে শুধু গরু দেখতে এসে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকছেন এবং খামারির কাছে গরু পালনের বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইছেন। কেউ খাবারের তালিকা জানতে চাচ্ছেন, আবার কেউ গরুর ওজন ও সম্ভাব্য দাম নিয়ে আলোচনা করছেন।

গরু দুটির বিশাল শরীর, চকচকে ত্বক ও চঞ্চল চলাফেরা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আরও আকর্ষণ করছে। মাঝে মাঝে ‘মোস্তাক’ মাথা নাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে উপস্থিত মানুষের মধ্যে হালকা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আবার ‘কামিনী’ শান্তভাবে খাবার খেতে থাকলে অনেকে কাছে গিয়ে ছবি তুলছেন। গরু দুটির নিরাপত্তার জন্য বাড়ির লোকজনকেও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

খামারের আশপাশের পরিবেশও যেন এখন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে বসেও চলছে ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’কে নিয়ে আলোচনা। কে কত দাম বলেছে, কোন হাটে নেওয়া হবে, আদৌ জেলার সবচেয়ে বড় গরু কি না—এসব নিয়েই মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। স্থানীয়দের মতে, কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই গরু দুটি দেখতে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

দর্শনার্থী রাকিব হাসান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরু দুটির ছবি দেখেছিলাম। পরে কৌতূহল থেকে সরাসরি দেখতে এসেছি। কাছে এসে দেখি বাস্তবে আরও বড়। এত বিশাল গরু আগে কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছে যেন ছোটখাটো হাতি দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এগুলোকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। এখন অনেকেই কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করে, কিন্তু এখানে সেটা হয়নি শুনে ভালো লাগছে। তাই মানুষও বেশি আগ্রহ নিয়ে দেখতে আসছে।’

তরুণ দর্শনার্থী কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে মোটরসাইকেলে করে গরু দেখতে এসেছি। গরু দুটির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর অনেকে আবার জানতে চাচ্ছে কোথায় এই গরু রাখা হয়েছে।”“গরু দুটি শুধু বড়ই না, খুবই চঞ্চল ও সুস্থ মনে হয়েছে। মালিক যেভাবে যত্ন করে গরু পালন করেছেন, সেটা দেখেও ভালো লেগেছে। এমন গরু দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে।’

স্থানীয় গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে গরু দেখতে এসেছি। কয়েকদিন ধরেই আশপাশের সবাই এই গরু দুটির কথা বলছিল। পরে ছেলেমেয়েরা খুব জেদ করায় আজ তাদের নিয়ে দেখতে এলাম। কাছে এসে সত্যিই অবাক হয়ে গেছি। এত বড় গরু আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমার বাচ্চারাও গরু দেখে অনেক আনন্দ পেয়েছে। তারা বারবার গরুর পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, ছবি তুলছে, আবার ভিডিও করছে। আশপাশে আরও অনেক মানুষকে দেখলাম পরিবার নিয়ে এসেছে। ছোট ছোট বাচ্চারা গরু দেখে খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘গরু দুটি শুধু বড়ই না, দেখতে খুব সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান। মালিক যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে গরু পালন করছেন, সেটাও খুব ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছে অনেক যত্ন ও ভালোবাসা দিয়ে বড় করা হয়েছে। এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন কোনো উৎসব বা মেলার পরিবেশ। সবাই হাসিখুশি, কেউ ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে, আবার কেউ গরু দেখে গল্প করছে। ঈদের আগেই এমন পরিবেশ দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।’

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রথমবার যখন দূর থেকে গরু দুটি দেখেছি, তখন সত্যি বলতে মনে হয়েছিল যেন ছোটখাটো হাতি দাঁড়িয়ে আছে। পরে কাছে গিয়ে বুঝলাম এগুলো গরু। এত বিশাল আকৃতির গরু সচরাচর দেখা যায় না। বিশেষ করে ‘মোস্তাক’কে দেখলে সবাই অবাক হয়ে যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ গরু দেখতে আসছে। অনেকে ছবি তুলছে, ভিডিও করছে, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন শুধু আমাদের গ্রাম নয়, আশপাশের এলাকাতেও গরু দুটি নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন গরু এলাকায় গর্বের বিষয়।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু বলেন, ‘এগুলো এখন শুধু গরু নয়, পুরো এলাকার আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন মানুষের যে ভিড় দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হয় যেন কোনো মেলা বসেছে। ছোট-বড় সবাই গরু দুটি দেখতে আসছে। অনেকেই এসে অবাক হয়ে বলছে, জীবনে এত বড় গরু দেখেনি। আমাদের ধারণা, কিশোরগঞ্জ জেলায় এবার এটাই সবচেয়ে বড় গরুর জুটি হতে পারে। গরু দুটি যেভাবে লালন-পালন করা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমরা চাই গরু দুটি ভালো দামে বিক্রি হোক, তাহলে খামারিও উৎসাহ পাবে এবং অন্যরাও প্রাকৃতিক উপায়ে গরু পালনে আগ্রহী হবে।’

হোসনা বেগম বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে অনেক কষ্ট আর মায়া দিয়ে গরু দুটি লালন-পালন করেছি। নিজের সন্তানের মতো করেই তাদের দেখাশোনা করেছি। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই গরু দুটির যত্ন নিতে হয়। দেশি ঘাস, খড়, ভুট্টা, ভুসি, খৈলসহ পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে বড় করেছি। কখনো অবহেলা করিনি। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি, নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। গরু দুটি ধীরে ধীরে বড় হওয়ার পর এখন এলাকার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে। সবাই ছবি তুলছে, ভিডিও করছে। এত বড় গরু দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোস্তাক’ আর ‘কামিনী’ শুধু গরু নয়, আমার সন্তানের মতো। স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টের মধ্যে জীবন কাটাতে হয়েছে। প্রায় ১৭ বছর ধরে ভাইয়ের বাড়িতে থেকেই সংগ্রাম করে সংসার চালাচ্ছি। এই গরু দুটিকে ঘিরেই এখন আমার অনেক আশা-ভরসা। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে সংসারের অভাব কিছুটা দূর হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গরু পালনের ইচ্ছা আছে। আল্লাহর রহমতে যদি ভালো দাম পাই, তাহলে সেই টাকা দিয়ে নতুন করে আবার খামার গড়ে তুলতে চাই।”

গরুর মালিক সাইদুর রহমান বলেন, “আমি আর আমার বোন দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত যত্নসহকারে দুটি গরু লালন-পালন করছি। গরুগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়ানো হয়েছে। কখনো কোনো ফিড, ইনজেকশন বা ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করিনি। খাবারের মধ্যে দেশি ঘাস, খড় এবং দানাদার খাবার হিসেবে ভুট্টা ভাঙা, ভুসি ও ডাবলি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন শুধু দানাদার খাবার বাবদই প্রায় ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। বর্তমান দেশের পরিস্থিতিতে এত ব্যয় বহন করা অনেক কষ্টসাধ্য হলেও ভালোবাসা আর যত্ন দিয়েই গরুগুলো বড় করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “দুটি গরুর নাম রাখা হয়েছে কামিনী ও মুস্তাক। এর মধ্যে কামিনীর ওজন প্রায় ১২০০ কেজি এবং মুস্তাকের ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি। দুইটিই প্রায় সমমানের, সামান্য কিছু ওজনের পার্থক্য রয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু দুটি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

দামের বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেকে গরু দুটি দেখে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন। তিন বছর ধরে অনেক কষ্ট, শ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে গরু দুটি বড় করেছি। শুধু খাবারের পেছনেই অনেক টাকা খরচ হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা, চিকিৎসা এবং পুষ্টিকর খাবার দিতে হয়েছে। তাই আমরা চাই গরু দুটির সঠিক মূল্যায়ন হোক। আমাদের আশা, ‘মোস্তাক’ ও ‘কামিনী’ মিলিয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারব।

ইউপি সদস্য সুলাইমান বলেন, “আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু পালন হলেও এত বড় ও এত সুন্দর গরু আগে কখনো দেখিনি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু এই দুটি গরু দেখার জন্য আসছে। সাইদুর রহমান ও তার বোন অত্যন্ত যত্ন ও ভালোবাসা দিয়ে গরু দুটি লালন-পালন করেছেন। প্রতিদিন নিয়ম মেনে দেশীয় ঘাস, খড়, ভুট্টা, ভুসি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। গরু দুটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি খুবই সুস্থ ও চঞ্চল। আমার বিশ্বাস, সৌখিন ও সামর্থ্যবান ক্রেতাদের কাছে গরু দুটির আলাদা মূল্য থাকবে। এমন গরু যে কোনো কুরবানির হাটের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।”

নিকলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা সবসময় খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে গরু পালনের পরামর্শ দিই। হাওর অঞ্চলে দেশীয় খাবার সহজলভ্য হওয়ায় এখানকার গরুর মান অনেক ভালো হয়। ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’কে যেভাবে লালন-পালন করা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। গরু সুস্থ থাকলে খামারিরাও ভালো দাম পাবেন।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে মানুষ সচেতন হচ্ছে। কৃত্রিম মোটাতাজাকরণের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু পালন করলে পশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ক্রেতারাও বেশি আস্থা পান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”

কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’কে ঘিরে বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। বাড়িতে বিক্রি না হলে বিশাল এই গরু দুটি কিশোরগঞ্জের কুরবানির হাটে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন খামারী সাইদুর রহমান। স্থানীয়দের ধারণা, হাটে উঠলে গরু দুটি দেখতে উপচে পড়া ভিড় হবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close