সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      ঢাকার চারপাশের নৌ-পথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
দেশজুড়ে
গৌরনদীতে অপচিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বার সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অপচিকিৎসায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুনা আক্তারের (৩২) পেটের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে মৌরী ক্লিনিকের আরএমও ডাক্তার জামাল হুসাইনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা উপজেলার আশোকাঠি গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে ডাক্তারসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযুক্তরা হলেন মো. জামাল হুসাইন, মৌরি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহমুদুল হাসান মুহিত ওরফে মহিউদ্দিন শরীফ, ক্লিনিকের ম্যানেজার লিটন।  

বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি প্রভাশালী মহল মরিয়া হয়ে মাঠে নামার অভিযোগ ওঠেছে।

ভুক্তভোগীর মা মেরিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে রুনা আক্তার পেটের ব্যথা শুরু হলে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার জন্য গত ৩ মে সকালে গৌরনদী মৌরী ক্লিনিকে নিয়ে যাই। ক্লিনিকে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ডাক্তার না থাকায় কর্তব্যরত গাইনি ডা. মো. জামাল হুসাইন কোন প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে আমাদের ওষুধ কিনে আনতে বলেন। আমার ছেলে মো. জিশান ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ কিনে আনলে ডাক্তার আমার মেয়ের শরীরে চারটি ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর মেয়ের প্রচুর ব্লাডিং শুরু হলে বিষয়টি ওই ডাক্তারকে জানানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন মেয়ের আল্ট্রাসোনগ্রাম করানো হয়। রিপোর্ট দেখে ওই ডাক্তার আমাদের বলেন, আপনার মেয়ের গর্ভের সন্তান আগেই মারা গেছে। রোগীকে তখনই বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়ে রেফার্ড করেন। তখন পুরো বিষয়টি আমরা মৌরী ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজারকে জানালে তারাও আমার মেয়েকে   (রুনাকে) সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার জন্য বলেন।’

মেরিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ে রুনাকে দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানকার ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, পেটের ভেতরের সন্তান (বাচ্চা) মারা গেছে। রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন করে পেটের মৃত বাচ্চা (সন্তান) বের করতে হবে। তাৎক্ষণিক শেবাচিম হাসপাতালের ডাক্তাররা অপারেশন করে মেয়ে রুনার পেটের মৃত (মরা) নবজাতক বের করেন।’

তিনি বলেন, ‘ডা. জামাল হুসাইনের অপচিকিৎসার কারণেই সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুনা আক্তারের পেটের ছেলে সন্তান (বাচ্চা) মারা গেছে। এ ব্যাপারে আমার স্বামী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে ডাক্তারসহ ক্লিনিকের তিনজনকে আসামি করে শনিবার গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

জানতে চাইলে জামাল হুসাইন বলেন, ‘আমি ওই রোগীকে সঠিক চিকিৎসাই দিয়েছি। বিয়ষটি রোগীর স্বজনদের সাথে মিমাংসা করেছে ক্লিনিকের মালিক পক্ষ। এর বেশিকিছু জানতে চাইলে ক্লিনিকের মালিকের সাথে কথা বলুন।’

মাহমুদুল হাসান মুহিত বলেন, ‘বিষয়টি রোগীর স্বজনদের সাথে বসে মিংমাসা করা হয়েছে।’

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পিতা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দিন থানায় এসে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। এ জন্য  আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গৌরনদী   অপচিকিৎসা   অন্তঃসত্ত্বার সন্তানের মৃত্যু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close