কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদ স্থানীয় জেলেদের কাছে হয়ে উঠেছে এক আতঙ্কের নাম। প্রায়শই আরাকান আর্মি এসে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি জেলেদের। এ ছাড়া নাফ নদের অপরপ্রান্তে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় ঘটছে গোলাগুলি। যা স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নদে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
এর আগে গত রোববার দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ চার জেলেকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে গেছে আরকান আর্মি।
স্থানীয় জেলে আহমেদ মিয়া জানান, গতকাল সকালে হ্নীলা লেদাসংলগ্ন নাফ নদে মাছ ধরার সময় তারা সীমান্তের ওপারে একটি লাল রঙের স্পিডবোট দেখতে পান। এর কিছুক্ষণ পরই মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে থেমে থেমে শতাধিক গুলির শব্দ ভেসে আসে। আকস্মিক গোলাগুলির শব্দে নদীতে থাকা জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে যান।
তিনি আরও জানান, কারা এ গোলাগুলিতে জড়িত ছিল সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদে জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, হ্নীলার লেদাসংলগ্ন নাফ নদের পূর্ব পাশে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদীতেও নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
চার জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি : গত রোববার নাফ নদ থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাসহ চার বাংলাদেশি জেলেকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা। এদিন বিকাল ৫টার দিকে ওই নৌকার মালিক আবসার ও নুরুল হাকিম জানান, সকাল ৬টার দিকে দুটি নৌকা নিয়ে জেলেরা নাফ নদে মাছ ধরতে যান। দুপুরে মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা স্পিডবোটে এসে তাদের ধাওয়া করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, জেলেদের বাংলাদেশের জলসীমা থেকেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা মনির আহমেদ (৪৫), ইয়াছিন (১৮), আব্দুল মালেক ওরফে শফা (৫০) এবং জামাল হোসেন (৪০)।
স্থানীয় জেলে সুলাইমান, নুরুল বশর ও নেজাম জানান, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়াসংলগ্ন নাফ নদ এলাকায় মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা জেলেদের জিম্মি করে। পরে দুটি মাছ ধরার নৌকাসহ তাদের মিয়ানমারের কাইচ্যং খালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকার চার জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। পরিবারগুলো খুব উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।’
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী নাফ নদে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জেলে এখন নদীতে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
কেকে/ এমএস