২০২৪ সালের মানবপাচার মামলায় অভিযুক্ত সেলিম মিয়ার পক্ষে প্রক্সি হাজিরা দিতে গিয়ে ১ মাস ৬ দিন কারাভোগ করা হারুন মিয়াকে জামিন দিয়েছে আদালত। সেই সাথে অন্যের পক্ষ হয়ে আদালতে মিথ্যা হাজিরা দেওয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও আদালত বিভ্রান্ত করার মামলা দায়েরপূর্বক গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান এই আদেশ দেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হারুন মিয়া জামিনে মুক্ত হলে পুনরায় তাকে জেল গেইট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে নরসিংদীর রায়পুরা থানায় মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ১২ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদ নগর এলাকার জামির, সেলিম ও ফাতেমা আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরে কারাকর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, সেলিম হিসেবে কারাগারে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় ভিন্ন, তিনি রায়পুরা উপজেলার মাহমুদ নগর এলাকার সামছু মিয়ার ছেলে হারুণ মিয়া। অর্থের বিনিময়ে সেলিম মিয়ার পক্ষে প্রক্সি হাজিরা দিতে আসেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পাশাপাশি ব্যাপক আলোচিত হয়।
গতকাল সোমবার মানবপাচার মামলায় প্রকৃত অভিযুক্ত সেলিম মিয়া আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে তার হয়ে প্রক্সি হাজিরা দিতে আসা হারুন মিয়াকে জালিয়াতি ও আদালত বিভ্রান্তের অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে নরসিংদী জেলা করাগারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।
অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে গ্রেপ্তার হওয়া হারুণ মিয়া জানান, তার শ্যালক জামির মিথ্যা বলে তাকে আদালতে নিয়ে আসেন। এ সময় আদালত কর্তৃক জামিন নামঞ্জুরের রায় শুনে পালিয়ে যায়। আর আদালত তাকে সেলিম ভেবে কারাগারে পাঠায় আদালত। আদালতের কাছে সে মুক্তি চায়।
এদিকে ভুয়া আসামি দিয়ে হাজিরা দেওয়ায় আইনজীবীদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। আদালতের কাছে পরিচয় নিশ্চিতে দাবি জানিয়েছেন।
কেকে/এমএ