স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা শুরু করেছে। এ দলগুলোর প্রার্থী বাছাইয়ে মেয়র—কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান পদে প্রাধান্য পাচ্ছে তরুণ নেতারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আলোচনায় আছেন ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েম।
সম্প্রতি রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে মেয়র পদে সাদিক কায়েমের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
অপরদিকে ঢাকাসহ দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে উত্তর সিটিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও দক্ষিণ সিটিতে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মেয়র পদে নির্বাচন করবেন।
এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এখানেও সামনে এসেছে তরুণ নেতৃত্ব। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ ও দক্ষিণ সিটিতে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম তাদের নাম ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটিতে কাউন্সিলর পদেও তরুণ প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের বড় অংশই তরুণ। এর মধ্যে এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে নুর মোহাম্মদ, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুর রহমান নাবিল, ১ নম্বর ওয়ার্ডে নাকিবুর রহমান ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে নাহিদ শিকদার ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
জানতে চাইলে এনসিপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী নুর মোহাম্মদ খোলা কাগজকে বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম এখন শুধু পোস্টারনির্ভর রাজনীতি চায় না। মানুষ চায় পরিচ্ছন্ন ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব। আমরা তরুণ প্রার্থীরা সেই পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাঠে আছি। জনগণের কল্যাণে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
আরেক প্রার্থী আব্দুর রহমান নাবিল বেপারী খোলা কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি। মুরুব্বিদের দোয়া এবং তরুণদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’ তরুণরা গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে এখন নতুন উদাহরণ তৈরি করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে শুধু মিটিং মিছিল জন্য তাদের ব্যবহার করবে, সেই সুযোগ আর নেই। যার ফলে এবার তরুণরা তাদের প্রতিনিধি নিশ্চিততে আমাদের মতো তরুণ প্রার্থীদের মূল্যায়ন করছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন দেশে তরুণ ভোটারদের সংখ্যা বাড়ছে এবং ভোটারদের বড় অংশ এখন দীর্ঘদিনের প্রচলিত রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে গিয়ে নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে দেখতে চায়। যার ফলে দলগুলোও এখন তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনতে বাধ্য।
সাধারণ ভোটারদের ভাষ্যেও এমনটাই উঠে এসেছে। উত্তরার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, অনেক বছর ধরে একই ধরনের নেতৃত্ব দেখেছি। এবার তরুণরা সুযোগ পেলে হয়তো নতুন কিছু উদ্যোগ আসবে। বিশেষ করে নাগরিক সেবা ও দুর্নীতি কমানোর বিষয়ে আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই।
এদিকে তরুণ নেতৃত্ব ও নগর উন্নয়ন নিয়ে খোলা কাগজের সঙ্গে কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ। তিনি বলেন, ‘পৃথিবী এখন পরিবর্তনের এক নতুন সময়ে প্রবেশ করেছে। যেটাকে বলে জেনজি বা এআইয়ের যুগ। এ সময়ে পরিবর্তনের ধারণাও বদলে গেছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্যারাডাইম শিফট হচ্ছে, জন্ম নিচ্ছে ভিন্নধর্মী চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা। এ কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে তরুণ নেতৃত্বই সময়ের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সেই ভাবনা থেকেই তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারণ নতুন প্রজন্মই নতুন চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সময়ের বাস্তবতাকে ধারণ করে রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।’
কেকে/ এমএস